তিরুবনন্তপুরম, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে কেরলে আনার আগের বাম সরকারের ব্যর্থ উদ্যোগ ঘিরে ওঠা কথিত প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবার খতিয়ে দেখবে মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশনের সরকার। ক্রীড়া দফতরের তদন্ত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে পৌঁছেছে। আগামী বুধবার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ক্রীড়া দফতরের বিশেষ সচিব এন. প্রশান্তের তৈরি রিপোর্টে আর্জেন্টিনা দলের প্রস্তাবিত কেরল সফর ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্পনসর বাছাই, আর্থিক লেনদেন এবং কালুরের জওহরলাল নেহরু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলে রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পনসর নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট সংস্থার স্বার্থে সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রস্তাবিত অনুষ্ঠান ঘিরে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত রিপোর্ট।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা দল কেরলে আসবে বলে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তার পক্ষে কোনও প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুরো উদ্যোগটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেরলে আর্জেন্টিনা দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে হলে ফিফার রেজিস্ট্রেশন এবং অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের অনুমোদন-সহ একাধিক বাধ্যতামূলক ছাড়পত্রের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এই অনুমোদন ছাড়াই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে তদন্ত। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী ভি. আবদুরহিমানের ভূমিকা বিশেষভাবে তদন্তের আওতায় এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি প্রাক্তন মন্ত্রীর নেতৃত্বেই নেওয়া হয়েছিল এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। প্রস্তাবিত অনুষ্ঠান সংক্রান্ত চিঠিপত্রও তিনি সরাসরি পরিচালনা করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের সুপারিশ করেছে ক্রীড়া দফতর। একইসঙ্গে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর সরকারি সফর এবং এই ঘটনাকে ঘিরে তাঁর ই-মেল যোগাযোগও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালুরের জওহরলাল নেহরু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টিও রিপোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত ম্যাচটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ম্যাচটির জন্য ফিফার কোনও রেজিস্ট্রেশন ছিল না এবং আইন ও অর্থ দফতরের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এমনকি বিমা এবং ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির মতো প্রাথমিক আর্থিক সুরক্ষা ছাড়াই স্টেডিয়াম হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিওনেল মেসি এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে কেরলে আনার প্রস্তাবটি একসময় ব্যাপক জনউন্মাদনা তৈরি করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বহু আলোচিত সফর বাস্তবায়িত হয়নি। এবার সেই ব্যর্থ উদ্যোগের প্রশাসনিক ও আর্থিক দিক নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট সামনে আসায় প্রাক্তন সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
— আইএএনএস



















