আগরতলা, ১১ আগস্ট: তৃণমূল স্তরে প্রশাসনিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুবিধা রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার জন্য নবনিযুক্ত টিসিএস আধিকারিকদের প্রতি আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু।
মঙ্গলবার রাজভবনে ভিত্তিমূলক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নবনিযুক্ত ২৭ জন ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস (টিসিএস) আধিকারিকের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, সরকারি নীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব সুফলে পরিণত করার ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিস আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আধিকারিকদের স্বচ্ছতা, দক্ষতা, সহানুভূতি এবং জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, প্রশাসনের কার্যকারিতা শুধু সরকারি নথি বা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও তৃণমূল স্তরের প্রশাসনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যেন শুধু সরকারি দফতর, শহর বা নগরকেন্দ্রিক এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে। যাঁদের জন্য প্রকল্পগুলি নেওয়া হয়েছে, তাঁদের কাছেই প্রকৃত সুবিধা পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজ্যপাল উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ অনেক সময় সরকারি পরিষেবা ও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেতে তুলনামূলক বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের এই ঘাটতিগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এদিন নবীন আধিকারিকদের উদ্দেশে রাজ্যপাল বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শুধু সরকারি রিপোর্টের উপর নির্ভর করলে চলবে না। যে এলাকায় দায়িত্ব থাকবে, সেই এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে নিয়মিত গ্রামে যেতে হবে এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা অর্জন করলেই কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সহায়তা বা অভিযোগ নিয়ে আসা নাগরিকদের কাছে আধিকারিকদের সহজে পৌঁছনোর উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মানুষের অভিযোগ মন দিয়ে শোনা, প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করা এবং যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে তার সমাধান নিশ্চিত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেন রাজ্যপাল।
তিনি বলেন, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় এই নবীন আধিকারিকরাই সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করবেন। তাঁদের আচরণ, কাজের ধরন এবং মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
রাজ্যপাল নবনিযুক্ত আধিকারিকদের সরকারি দায়িত্বকে শুধুমাত্র চাকরির আনুষ্ঠানিক কর্তব্য হিসেবে না দেখে ত্রিপুরার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা, দুর্বল ও সরকারি পরিষেবায় তুলনামূলক কম সুযোগ পাওয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
টেকসই ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়নমূলক প্রশাসন গড়ে তোলাই নবীন আধিকারিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলেও এদিন মন্তব্য করেন রাজ্যপাল এন. ইন্দ্রসেনা রেড্ডি।



















