আগরতলা, ১০ আগস্ট: একত্রে শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহার বাসভবনের দিকে মিছিল করে যাওয়ার পথে সোমবার পুলিশি বাধার মুখে পড়লেন ২০২৪ সালের টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। আগরতলার মহিলা কলেজের সামনে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ত্রিপুরা টিচার্স রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, শিক্ষা দপ্তর এবং প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের কাছে একাধিকবার ডেপুটেশন ও আন্দোলন করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং বহু পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগে এত দীর্ঘসূত্রিতা কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এক আন্দোলনকারী বলেন, “রাজ্যে শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে, স্কুলগুলিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তাহলে দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও আমাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না কেন?”
আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, সর্বশেষ টেট পরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। যাচাই প্রক্রিয়ার পর ১ হাজার ৮৫৬ জন প্রার্থী অবশিষ্ট রয়েছেন। দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন প্রার্থীর বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বয়সসীমা পূর্ণ হতে মাত্র এক মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে। ফলে নিয়োগে বিলম্ব হলে তাঁরা সরকারি চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
টেট উত্তীর্ণদের বক্তব্য, তাঁরা পরীক্ষার মানদণ্ড বা নম্বরের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দাবি করছেন না। কঠিন টেট পরীক্ষা এবং পরবর্তী যাচাই প্রক্রিয়ায় সফল হওয়া প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগের দাবিই তাঁরা জানাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকায় তাঁদের জীবিকাতেও প্রভাব পড়ছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। অনেকেই নিয়োগের আশায় এতদিন ব্যক্তিগত টিউশন করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু বর্তমানে টিউশনের কাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের ন্যায্য দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হচ্ছে।
অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি রাজ্যে শিক্ষক সংকট ও বেকারত্ব মোকাবিলায় নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ২০২৪ সালের টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।
























