রাঁচি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিধানসভা অভিযান সোমবারও অব্যাহত রয়েছে। ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে মিছিল করেন। এদিকে আন্দোলন ঘিরে রাঁচিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে আটক করা হয়।
রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের অনেকের পরনে ছিল ‘ভলান্টিয়ার’ লেখা টি-শার্ট। সেখান থেকেই বিধানসভার উদ্দেশে মিছিল শুরু হয়। এই আন্দোলন ১৭তম দিনে পড়েছে। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি পরিচালিত কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং কথিত অনিয়মের সিবিআই তদন্তের দাবিতে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা।
অনশনরত জেপিএসসি আন্দোলনের নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোও অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিধানসভার উদ্দেশে রওনা হন। পরে তিনি মিছিলে যোগ দেন এবং সমর্থকদের কাঁধে স্ট্রেচারে করে তাঁকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের নিযুক্ত কমিটির মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারে পড়ুয়াদের রাজি করানো যায়নি। এরপরই সোমবারের বিধানসভা অভিযান শুরু হয়।
আইএএনএসকে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘‘সরকার তাদের কাজ করছে, আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের আওয়াজ তোলা আমাদের দায়িত্ব। যেভাবে আমরা দিল্লির যন্তর মন্তরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে পদক্ষেপ করতে বাধ্য করেছিলাম, এখানেও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমরা গান্ধীবাদী পথ বেছে নিয়েছি এবং সেই পথেই থাকব। আজ আন্দোলনের ১৭তম দিন। এখনও সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত। আমাদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি, কিন্তু মূল দাবিগুলির এখনও সমাধান হয়নি।’’
আর এক পড়ুয়া বলেন, ‘‘পুলিশ আমাদের থামানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমরা আন্দোলন থামাব না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে।’’
তৃতীয় এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘‘আজকের মিছিল বিধানসভার উদ্দেশে। আমরা অবশ্যই এগিয়ে যাব, তবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে। ঝাড়খণ্ড সিজিএল পরীক্ষা বাতিল এবং সিবিআই তদন্ত-সহ আমাদের মূল দাবিগুলি একই রয়েছে। এর চেয়ে কম কিছু আমরা মেনে নেব না।’’
ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার (জেএলকেএম) বিধায়ক জয়রাম কুমার মাহাতোও পড়ুয়াদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘এটি সরকারের ব্যর্থতা। পরীক্ষাটি বাতিলের দাবি সরকারের মেনে নেওয়া উচিত ছিল। সরকার বেশ কিছু দাবি মেনে নিয়েছে এবং তার জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা, যেখানে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।’’
বিক্ষোভের মধ্যেই পুরনো বিধানসভা ভবনের কাছে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। এরপর তাঁরা নতুন বিধানসভা ভবনের দিকে মিছিল চালিয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ-সহ বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।
রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্যই পদত্যাগ করার পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রাজ্য সরকারের সুপারিশের পর রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন বলে রাজভবনের এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে কথিত জেপিএসসি পরীক্ষা অনিয়মের ঘটনায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ইসিআইআর) নথিভুক্ত করেছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য তাঁদের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বাতিলের দাবি জানানো ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিল করা হয়েছে। জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান জানিয়েছেন, পড়ুয়ারা সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ছয়জন আন্দোলনকারী এখনও অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এর আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় কোনও অনিয়মের জন্য যারা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আন্দোলন থামার কোনও লক্ষণ না থাকায় পড়ুয়াদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের অচলাবস্থা এখনও অব্যাহত।
—আইএএনএস



















