বেঙ্গালুরু, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): বেঙ্গালুরু শহরজুড়ে বিশেষ যাচাই অভিযান ‘অপারেশন মুক্তা’ চালিয়ে ১০৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের বৈধ নথি বা অনুমোদন ছাড়াই শহরে বসবাসের অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও নথি যাচাইয়ের জন্য এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সোমবার পুলিশ জানিয়েছে।
শনিবার শহরজুড়ে এই অভিযান চালানো হয়। মোট ৫৮টি পুলিশ দল বেঙ্গালুরুর ৫৮টি এলাকায় তল্লাশি এবং নথিপত্র যাচাই করে।
হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনে অভিযানের সময় ১,০৩৫ জনের নথি যাচাই করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৬২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের কাছে ভারতে বসবাসের বৈধ নথি বা অনুমোদন ছিল না।
অন্যদিকে, ইলেকট্রনিক সিটি ডিভিশনে ইলেকট্রনিক সিটি, হুলিমাভু, পারাপ্পানা অগ্রহারা, বান্দেপাল্যা, হেব্বাগোড়ি এবং বেগুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১,৯০৯ জনের নথি যাচাই করা হয়। সেখান থেকে আরও ৪৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই দুই ডিভিশনে শনাক্ত হওয়া ৬২ এবং ৪৩ জন মিলিয়েই সর্বশেষ পর্যায়ের অভিযানে মোট ১০৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের বসবাসের অভিযোগের পর ‘অপারেশন মুক্তা’ শুরু করা হয়। হোয়াইটফিল্ড, কাদুগোড়ি এবং মহাদেবপুরা-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তল্লাশি, অভিযান এবং নথি যাচাই চালাচ্ছে।
হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) সাইদুল্লা আদাভাত জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গোটা শহরজুড়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী হোয়াইটফিল্ড ডিসিপি ডিভিশন-সহ গোটা শহরে এই বিশেষ অভিযান চলছে। ৫০০-রও বেশি পুলিশকর্মী ও আধিকারিক এই অভিযানে যুক্ত রয়েছেন। অভিযান চলবে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের বিভিন্ন থানার আওতায় ৩০টিরও বেশি জায়গায় নথি যাচাই করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ হওয়া ব্যক্তিদের বিস্তারিত নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ডিসিপি আদাভাত বলেন, ‘‘কারও বিষয়ে সন্দেহ হলে তাঁর নথি যাচাই করা হবে। অন্য দেশের পরিচয়পত্র বা তাঁরা অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি নাগরিক হিসেবে এখানে বসবাস করছেন এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) নজরে আনা হবে।’’
তিনি জানান, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাওয়ার পরেই তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ, এমনকি প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যর্পণের নির্দেশ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’’
‘অপারেশন মুক্তা’-র আওতায় বেঙ্গালুরুতে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বসবাসের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের আধার এবং ভোটার পরিচয়পত্র-সহ বিভিন্ন পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, বিশেষ করে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং রোহিঙ্গাদের উপর নজর দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহায়তায় বিদেশি নাগরিকরা ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের আওতা বাড়িয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের বসবাসের জন্য তৈরি অস্থায়ী শেড এবং অস্থায়ী আবাসনগুলিতেও নথি যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, বেঙ্গালুরুতে অন্য রাজ্য ও জেলা থেকে আসা নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য কিছু বাসিন্দা অস্থায়ী শেড তৈরি করে ভাড়া দেন। এই ধরনের জায়গায় অনুমোদনহীন বিদেশি নাগরিকরাও বসবাস করতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ।
ডিসিপি আদাভাত জানিয়েছেন, বিদেশি নাগরিকদের অনুমোদনহীনভাবে বসবাসে সহায়তা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুজুড়ে ‘অপারেশন মুক্তা’ অব্যাহত থাকবে। অভিযানে সংগৃহীত নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈধ অনুমোদন ছাড়া শহরে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে পুলিশ জানিয়েছে।
—আইএএনএস



















