পোর্ট লুই/নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও মরিশাসের মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার থেকে চার দিনের মরিশাস সফর শুরু করেছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। আগামী ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার তাঁর এই সফর শেষ হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মরিশাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই নৌপ্রধানের এই সফর।
সফরকালে অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন মরিশাস সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক সহযোগিতার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে ভারত-মরিশাস সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানো এবং দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করাই লক্ষ্য।
ভারত ও মরিশাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামুদ্রিক অংশীদারিত্ব রয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে মরিশাসের ন্যাশনাল কোস্ট গার্ডের সঙ্গে প্রশিক্ষণ বিনিময়, যৌথ এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) নজরদারি, বন্দর সফর এবং হাইড্রোগ্রাফিক সমীক্ষার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়।
এছাড়াও দুই দেশ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চ এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে। মরিশাস নিয়মিতভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ—ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম, মিলান, ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ, গোয়া মেরিটাইম কনক্লেভ, আইওএস সাগর এবং ‘এক্সারসাইজ আইকেমে’-তে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের অভিন্ন ‘মহাসাগর’—দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বলেছে, নৌপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনের মরিশাস সফর ভারত-মরিশাস বন্ধুত্বকে ভারত যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তা তুলে ধরছে। পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
এর আগে আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মরিশাসের বিদেশমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল ‘সাগর’ এবং ‘মহাসাগর’ উদ্যোগকে ‘যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও ভূমিকারও প্রশংসা করেছিলেন তিনি।
রামফুল বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির আমলে ভারতের কূটনৈতিক নীতিতে মরিশাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে। তিনি ২০১৫ এবং ২০২৫ সালে দু’বার মরিশাস সফর করেছেন। দুই সফরেই তিনি ‘সাগর’ এবং ‘মহাসাগর’—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন।



















