নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): এক দশক আগে মাত্র ৪২২ কোটি টাকা পণ্য ও পরিষেবা লেনদেনের মোট মূল্য (জিএমভি) থেকে বর্তমানে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি—সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (জিইএম) সরকারি ক্রয়ের নিয়মকেই বদলে দিয়েছে বলে সোমবার মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, জিইএম পোর্টালে বর্তমানে ১২.২৮ লক্ষেরও বেশি ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগ (এমএসই) নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২.২৫ লক্ষেরও বেশি প্রতিষ্ঠান মহিলা উদ্যোক্তাদের পরিচালিত। পাশাপাশি ৪২ হাজারেরও বেশি স্টার্টআপও এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে ক্ষমতায়ন সরকারের কাছে শুধু স্লোগান নয়, বরং বাস্তব প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
পীযূষ গোয়েল বলেন, গত ১০ বছরে জিইএম প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে, পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে, সরকারি ক্রয়ের সময় কমিয়েছে, সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করেছে এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, এর ফলে ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগ, স্টার্টআপ, মহিলা উদ্যোক্তা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি), কারিগর এবং তাঁতিদের জন্য সরকারি বাজার আরও সহজলভ্য হয়েছে। একইসঙ্গে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মতো উদ্যোগকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জিইএম।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, জিইএম আত্মনির্ভরতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর ভিত আরও শক্তিশালী করছে।
২০১৬ সালের ৯ আগস্ট চালু হওয়া জিইএম বর্তমানে একাদশ বছরে প্রবেশ করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি সরকারি ক্রেতা সংস্থা এবং প্রায় ২৫ লক্ষ বিক্রেতা ও পরিষেবা প্রদানকারী যুক্ত রয়েছেন।
সরকারি তথ্যপত্র অনুযায়ী, জিইএমকে কেন্দ্র করে আরও স্মার্ট ও সমন্বিত সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং আরও বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি চাহিদার সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে যুক্ত করে ‘ভোকাল ফর লোকাল’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জিইএম।
১০,৬৬০টিরও বেশি পণ্য এবং ৩৫০টি পরিষেবা বিভাগ নিয়ে জিইএম বর্তমানে ভারতের ডিজিটাল সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন ধরনের ক্রয়ের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
—আইএএনএস



















