নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট(আইএএনএস): বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন ফরেন কনট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট (এফসিআরএ)-এর সংশোধনী বিল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মন্তব্যের জবাব দিল ভারত। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র দেশের সংসদের।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দ্বি-সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ভারত সম্পর্কিত আইনগত বিষয় আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিষয়ে দেশের সংসদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের একাধিক দেশ বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
সম্প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতা রাইলি মুরে ভারতের বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিদেশ মন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় এফসিআরএ সংশোধনী বিল পেশ করতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে আর্থিক নেটওয়ার্কের দ্রুত সম্প্রসারণ, ডিজিটাল লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক অর্থ প্রবাহের কারণে আর্থিক স্বচ্ছতা, বিদেশি প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই কারণে বহু গণতান্ত্রিক দেশেই বিদেশি অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, এফসিআরএ-কে এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেই দেখা উচিত। সরকারের দাবি, এই আইন কোনও বৈধ সামাজিক বা দাতব্য কাজকে বাধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং বিদেশি অনুদান যাতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে গ্রহণ, ব্যবহার এবং হিসাব করা হয় তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি।
এফসিআরএ আইন অনুযায়ী, ভারতের ব্যক্তি, সংগঠন, এনজিও, ট্রাস্ট এবং সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে অর্থ, সিকিউরিটি বা অন্য কোনও ধরনের অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য। এই আইনটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে, এফসিআরএ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে, কারা বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারবেন এবং কোন শর্তে তা গ্রহণ করা যাবে, সেই অর্থ কীভাবে গ্রহণ ও হিসাব রাখতে হবে, এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা।
কেন্দ্রের তরফে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিদেশি প্রভাব ও অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একই ধরনের আইন রয়েছে। কানাডার বিদেশি প্রভাব বিষয়ক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আইন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি এজেন্ট নিবন্ধন আইন (এফএআরএ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন নিয়মের উদাহরণ দিয়ে সরকার দাবি করেছে, বিদেশি অর্থ ও প্রভাবের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ানো বর্তমানে বহু গণতান্ত্রিক দেশের নীতি।
সরকারের মতে, কানাডা ২০২৪ সালে বিদেশি প্রভাব সংক্রান্ত আইন কার্যকর করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে ৮৭ বছরের পুরনো এফএআরএ আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের দিকে এগিয়েছে। ব্রিটেনেও বিদেশি প্রভাব নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
কেন্দ্রের বক্তব্য, ভারতের এফসিআরএ-ও একই ধরনের আন্তর্জাতিক কাঠামোর অংশ। গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে বিদেশি অর্থ, নির্দেশনা বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক যদি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে, তাহলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকার বলেছে, বিদেশি অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা আধুনিক গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গোপনীয়তা বা নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।



















