নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট(আইএএনএস): সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের অচলাবস্থার মধ্যেই জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র বিভিন্ন শরিক দলের সাংসদদের নিয়ে বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র বিদ্রোহী সাংসদ-সহ মোট ৪৫ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি সাংসদদের উদ্দেশে বলেন, চিন্তা করবেন না, এনডিএ একটি পরিবার। আমি প্রত্যেক সাংসদের পাশে আছি। কোনও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সংসদে বিরোধীদের লাগাতার হইচইয়ের কারণে অনেক সাংসদ বক্তব্য রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি শুধু বিজেপির নয়, এনডিএ-র প্রতিটি সাংসদের পাশে রয়েছেন। জোটের শরিক দলগুলির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি।
শুক্রবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি এনডিএ-তে যোগ দেওয়া একাধিক সাংসদ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ, যারা পরে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সাতজন প্রাক্তন সাংসদ, যাঁদের মধ্যে ছয়জন একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ২০ জন সাংসদ এবং অজিত পাওয়ার শিবিরের এনসিপির দুই সাংসদ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের সংসদের ইতিহাস পড়ে জানার এবং সংসদীয় বিতর্কে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সংসদ দেশের গণতন্ত্রের মন্দির এবং সেখানে প্রতিটি সাংসদের উচিত নিজের কেন্দ্রের মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দিল্লির রাজনৈতিক বয়ানের জালে আটকে পড়বেন না।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর সরকারি বাসভবনে বিজেপির ৩৭ জন সাংসদকে নিয়ে একটি নৈশভোজ বৈঠক করেছিলেন। বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন সাংসদদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ বজায় রাখা, সংসদীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা এবং এনডিএ-র শরিকদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতেই এই বৈঠকগুলির আয়োজন করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।



















