আগরতলা, ৭ আগস্ট: কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক ও শ্রমিক-বিরোধী নীতির প্রতিবাদে আগামী ১০ আগস্ট রাজ্যজুড়ে ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’ কর্মসূচির ডাক দিল সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন (সিটু), অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা (এআইকেএস), ত্রিপুরা ক্ষেত মজদুর ইউনিয়ন (টিকেএমইউ) এবং গণমুক্তি পরিষদ (জিএমপি)।
আজ আগরতলায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিটুর প্রবীণ নেতা পবিত্র কর বলেন, ১৯৪২ সালের মহাত্মা গান্ধীর ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন থেকেই এবারের কর্মসূচির অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এবারের আহ্বান ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’। শ্রমিক, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের জীবিকা ও অধিকার ধারাবাহিকভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছে।
সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছর ৯ আগস্ট ‘ভারত ছাড়ো’ দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করা হলেও, এ বছর ৯ আগস্ট রবিবার হওয়ায় কর্মসূচি ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যের ২১টি স্থানে বিক্ষোভ ও সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে আগরতলায় হবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। সিটুর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর প্রসাদ দত্ত আশা প্রকাশ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন।
সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— চারটি শ্রম আইন (লেবার কোড) প্রত্যাহার, এমজিএনআরইজিএ-এর আওতায় বছরে ২০০ দিনের কাজ ও দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি, টিডব্লিউইপি প্রকল্পে নিয়মিত কর্মসংস্থান, পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য হ্রাস।
এছাড়া কৃষিপণ্যের জন্য সি২+৫০ শতাংশ সূত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) নিশ্চিত করা, ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-কে শক্তিশালী করতে ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস, দরিদ্র পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুতের বর্ধিত শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্মার্ট মিটার বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পবিত্র কর কেন্দ্রের শ্রম সংস্কার নীতির সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।



















