নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): শুক্রবার দুপুরে পুনরায় অধিবেশন শুরু হওয়ার পরই লোকসভায় তীব্র হইচই শুরু হয়। বিরোধী সাংসদরা জোরালো স্লোগান দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দিনের মতো মুলতবি করে দেওয়া হয় লোকসভার অধিবেশন।
বিরোধীদের লাগাতার স্লোগানে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং আসন থেকে সদস্যদের শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়। তবে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোকসভায় অনুপস্থিতি নিয়ে চলা অচলাবস্থার জেরেই গত কয়েক দিন ধরে সংসদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবারও সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়।
দুপুর ১২টায় লোকসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী সাংসদরা স্লোগান দিতে শুরু করেন—“অমিত শাহ, সদনে আয়ো”।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে আসনে থাকা দিলীপ সাইকিয়া প্রতিবাদী সাংসদদের উদ্দেশে বলেন, এটি লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিধি ৩৭৭-এর অধীনে সাংসদরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ পান। তাই সবাইকে সংসদের কাজ চালাতে সহযোগিতা করার আবেদন জানান তিনি।
সাইকিয়া বলেন, “আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, নিজেদের আসনে ফিরে যান এবং লোকসভার কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করুন।” তবে বিরোধী সাংসদরা তাঁদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
বিরোধীদের স্লোগান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের প্রতিবাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করা।
রিজিজু বলেন, “সকাল থেকেই তাঁরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম শুধুমাত্র সংসদের কাজ বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি জানাতে চাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকাল থেকেই সংসদে উপস্থিত রয়েছেন এবং রাত পর্যন্ত থাকেন।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যাঁর নামই সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। তিনি যদি কোনও বিষয়ে জবাব দিতে আসেন, আপনারা শুনতে বসবেন না।”
বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদের কার্যক্রমকে জিম্মি করার অভিযোগ তুলে রিজিজু বলেন, প্রতিবাদী সাংসদদের এই ধরনের আচরণ বন্ধ করা উচিত। তাঁরা সংসদের কার্যক্রম নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনা করতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিলীপ সাইকিয়া জানান, সাংসদদের বারবার ব্যানার ও পুস্তিকা প্রদর্শন না করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তাঁরা তা মানছেন না।
এরপরও হট্টগোল চলতে থাকায় লোকসভার অধিবেশন দিনের বাকি সময়ের জন্য মুলতবি করে দেওয়া হয়।
এর আগে তুমুল বিরোধী প্রতিবাদের মধ্যেই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়।
কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি বিবেচনা ও পাসের জন্য পেশ করেন। পরে তা ধ্বনিভোটে অনুমোদিত হয়।



















