নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): দীর্ঘদিন ধরেই দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্ক-সহ বিভিন্ন অপরাধী চক্র ভারতে জাল ভারতীয় মুদ্রা নোট ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতে এই চক্রগুলি বছরের পর বছর ধরে জাল নোটের কারবারকে অন্যতম লাভজনক কার্যকলাপ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন দেশে জাল নোট পাচারের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের সন্ধান পেয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, জাল ৫০০ টাকার নোটের প্রচলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা এই চক্রগুলির কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আগে জাল নোট চক্রগুলির প্রধান লক্ষ্য ছিল ২০০ ও ৫০০ টাকার নোট জাল করা। কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানতে পেরেছে, তাদের নজর এখন কম মূল্যমানের নোটের দিকে। বিশেষ করে ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার জাল নোট বিপুল পরিমাণে ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, জাল মুদ্রার প্রচলন শুধু অপরাধী চক্রগুলির আর্থিক যোগান বাড়ায় না, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি তৈরি করে। অভিযোগ, এই কারণেই পাকিস্তানের আইএসআই এই চক্রগুলিকে সহায়তা করে চলেছে এবং এর একটি বড় অংশ দাউদ ইব্রাহিমের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরোর আধিকারিক জানান, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের আইএসআই কম মূল্যমানের জাল নোট দিয়ে বাজার ভরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য হল আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে ১০, ২০ ও ৫০ টাকার জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া।
ওই আধিকারিক বলেন, “এই নতুন কৌশলের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এই চক্রগুলি জানে যে ১০০ টাকার বেশি মূল্যের নোট গ্রহণের আগে মানুষ সাধারণত ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। কিন্তু ছোট মূল্যমানের নোটের ক্ষেত্রে এমন সতর্কতা দেখা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ১০, ২০ বা ৫০ টাকার নোট ব্যবহারের সময় খুব কমই যাচাই করেন সেটি আসল না নকল। আর এই অসতর্কতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে জাল নোট চক্রগুলি।
আধিকারিকদের মতে, অপরাধী চক্রগুলি মনে করছে, কম মূল্যমানের জাল নোট সহজে নজর এড়িয়ে যায় এবং সন্দেহ তৈরি না করেই বড় পরিমাণে বাজারে ছড়ানো সম্ভব।
আরেক আধিকারিক জানান, ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ছোট মূল্যমানের জাল নোট ছড়ানোর জন্য বড় ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে পারে এই চক্রগুলি।
ভারত ২০২৮ সাল থেকে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর পরিকল্পনা করছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) জানিয়েছে, ২০২৮ সালে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হতে পারে।
নতুন পলিমার নোট চালুর মূল উদ্দেশ্য হল নোটের স্থায়িত্ব বাড়ানো। কাগজের নোটের তুলনায় এগুলির আয়ু প্রায় চার গুণ বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় জাল করা আরও কঠিন হবে।
পলিমার নোটে স্বচ্ছ জানালা, বিশেষ ধাতব উপাদান এবং মাইক্রো-অপটিক্যাল হলোগ্রামের মতো আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, যা জালিয়াতি রুখতে সাহায্য করবে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, ২০২৮ সালে নতুন নোট চালুর আগে আইএসআই-সমর্থিত চক্রগুলি ছোট মূল্যমানের জাল নোট ছড়ানোর তৎপরতা বাড়াতে পারে।
সংস্থাগুলির সতর্কবার্তা, নতুন নোট চালু হওয়ার পর এই চক্রগুলি ৫০ ও ১০০ টাকার নোটকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ৫০০ টাকার নোটের উপর তাদের নির্ভরতা কমতে পারে।
আরবিআই বারবার সাধারণ মানুষকে জাল নোট শনাক্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক করে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, ছোট মূল্যমানের নোটের আর্থিক মূল্য কম হলেও দৈনন্দিন লেনদেনে এগুলির ব্যবহার অনেক বেশি। তাই এই ধরনের নোট ব্যবহারের সময়ও নাগরিকদের সতর্ক থাকা জরুরি।
……..



















