নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): বিরোধীদের তীব্র স্লোগান ও বিক্ষোভে শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভার অধিবেশন। শূন্যকাল চলাকালীন বিরোধী সাংসদরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির দাবি জানিয়ে সরব হন। লাগাতার হট্টগোলে সভার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের জবাবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে বলেন, নতুন কোনও বিষয় থাকলে তিনি বক্তব্য রাখতে পারেন। এর উত্তরে খাড়গে জানান, তাঁর দাবি একই থাকবে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভায় এসে বক্তব্য রাখতে হবে।
খাড়গে বলেন, চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই বিরোধীদের দাবি সরকারের কাছে জানিয়েছেন, কিন্তু সরকার সেই আবেদনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এরপর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু খাড়গের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন এবং অভিযোগ করেন যে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সভার কাজ ব্যাহত করছেন।
রিজিজু বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংসদে উপস্থিত থাকেন এবং তাঁর মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট কাজ তালিকাভুক্ত থাকলেই তিনি সভায় আসেন। তিনি আরও বলেন, আগের দিন বিরোধী দলনেতা শুধুমাত্র একটি বিষয় উত্থাপন করেছিলেন, যা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির বিষয়ে চেয়ারম্যান কোনও নির্দেশ দেননি।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদরা প্রথমে স্লোগান দেন এবং পরে সভা ছেড়ে চলে যান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে এলেও তাঁরা তা শুনতে উপস্থিত থাকেন না। কোনও মন্ত্রী কখন সভায় উপস্থিত হবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার বিরোধীদের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই বাকবিতণ্ডার পর চেয়ারম্যান বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ প্রকাশ চিক বড়াইক, কেরলের সিপিআই সাংসদ পি পি সুনীর এবং উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ অমর পাল মৌর্যকে তাঁদের বিষয় উত্থাপনের অনুমতি দেন। এরপর দুপুর পর্যন্ত রাজ্যসভার কার্যক্রম মুলতুবি করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে সংসদের টেবিলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট ও বিবৃতি পেশ করা হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৬-২৭ সালের অনুদানের দাবির বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কমিটির ২৭তম ও ২৮তম রিপোর্ট পেশ করা হয়। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ডিরেক্টরেট অব অর্ডন্যান্স, গুণমান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস এবং সৈনিক স্কুল, রাষ্ট্রীয় ইন্ডিয়ান মিলিটারি কলেজ ও রাষ্ট্রীয় মিলিটারি স্কুলগুলির পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সুধা মূর্তি ও কবিতা পাতিদার জাতীয় মহিলা কমিশন ও রাজ্য মহিলা কমিশনের কার্যক্রম এবং আদিবাসী মহিলাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত মহিলা ক্ষমতায়ন কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপের বিবৃতি পেশ করেন।
গোবিন্দভাই লালজিভাই ধোলাকিয়া ও সতীশ পুনিয়া শ্রম, বস্ত্র ও দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ডের প্রকল্প এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকের অনুদানের দাবি সংক্রান্ত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিবৃতি পেশ করেন।
মায়াঙ্ককুমার নায়ক ডাক বিভাগের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে ওবিসি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ব্যবস্থা সংক্রান্ত অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির কল্যাণ কমিটির দশম রিপোর্ট পেশ করেন।
ভূপতি রাজু শ্রীনিবাস বর্মা গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, ইস্পাত এবং ভারী শিল্প মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিবৃতি দেন।
এছাড়াও, এল মুরুগন সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ডে একজন সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব আনেন। প্রতাপ রাও যাদব ন্যাশনাল অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাকটিভ টেকনোলজি অ্যান্ড সারোগেসি বোর্ডে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব পেশ করেন।
চিরাগ পাসোয়ান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব ফুড টেকনোলজি, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কাউন্সিলে শূন্য পদ পূরণের জন্য একজন সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব আনেন।
এল মুরুগন রাজ্যসভার ২৭১তম অধিবেশনের বাকি সময়ের সরকারি কাজের তালিকা সম্পর্কেও বিবৃতি দেন।
।।।।।
























