গুয়াহাটি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ঘোষিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার যে সমস্ত ত্রাণমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে, সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গত পরিবারগুলিকে তাৎক্ষণিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আগামী ৯ আগস্ট থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক সমীক্ষা শুরু হবে। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই পরবর্তী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
ঘোষিত ত্রাণ প্যাকেজ অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া অরুণোদয় প্রকল্পের মাসিক ভাতা এক মাসের জন্য বাড়িয়ে ২,৫০০ টাকা করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
বন্যায় মৃত ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ৪ লক্ষ টাকা এককালীন আর্থিক অনুদান (এক্স-গ্রেশিয়া) ঘোষণা করেছে সরকার। এই অনুদান পেতে কোনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে না। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
ত্রাণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে ছয় মাসের জন্য ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশ (মোরাটোরিয়াম), বিদ্যুৎ বিল ও খাজনা মকুব এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও নামঘর পুনর্নির্মাণের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত নামঘরের জন্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হবে।
পড়ুয়াদের শিক্ষায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের নতুন পাঠ্যপুস্তক, স্কুল ইউনিফর্ম এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত নথির বিনামূল্যে ডুপ্লিকেট কপি সরবরাহ করবে রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা বন্যায় অসমের ১৫টি জেলার ১ লক্ষ ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ত্রাণ শিবির, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র এবং উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।



















