নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে গত এক সপ্তাহে ৫০টিরও বেশি অভিযোগ পেয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। ঘটনায় মেটা এবং দেশের একাধিক রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের নোটিস পাঠিয়ে এফআইআর দায়ের ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এনএইচআরসি-র সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, পাঞ্জাব, দিল্লি, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা এবং বিহারের পুলিশ প্রধানদের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মেটাকেও নোটিস দিয়ে শিশু সুরক্ষা এবং অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ভারতীয় আইন মেনে চলার জন্য তাদের নীতিমালা ও কার্যপ্রণালী পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে এনএইচআরসি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক-এর নজরেও আনা হয়েছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে একটি পোস্টারও প্রকাশ করেছেন প্রিয়াঙ্ক কানুনগো। সেখানে শিশুদের যৌন শোষণমূলক কনটেন্টের প্রচার রোধে সাধারণ মানুষকে এমন কনটেন্ট দেখলে অবিলম্বে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সরাসরি তাঁর সরকারি ই-মেলে যোগাযোগ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও অন্যান্য শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ সংস্থার প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট, ডিপফেক এবং পরিচালনাগত ত্রুটির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
এর আগে দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (এটিআর) না পাওয়ায় দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে সমন জারি করে এনএইচআরসি। কমিশনের অভিযোগ, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত কিছু বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের ইঙ্গিত দিয়ে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রামের চ্যানেলে পাঠানো হচ্ছিল, যেখানে ওই ধরনের কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি গ্রহণ করে এনএইচআরসি। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে তা শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ, সংগঠিত অপরাধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
এনএইচআরসি জানিয়েছে, বিষয়টি পকসো আইন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন আইন, ২০২৩-সহ শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক আইনের আওতায় তদন্তযোগ্য। কমিশন দিল্লি পুলিশকে ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ, প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা দায়ের, আর্থিক লেনদেনের তদন্ত এবং শিশুদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পাশাপাশি, মেটা এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলি পকসো আইনের বাধ্যতামূলক রিপোর্টিংয়ের বিধান মেনেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনএইচআরসি।
।।।।।



















