গুয়াহাটি, ৭ আগস্ট (আইএএনএস): অসমে বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। ধনশিরি (দক্ষিণ) নদীর জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় গোলাঘাট জেলায় নদীর তীরবর্তী ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করেছে অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)।
এএসডিএমএ-র জারি করা পরামর্শে বলা হয়েছে, গোলাঘাট জেলার ধনশিরি (দক্ষিণ) নদীর জলস্তর অব্যাহতভাবে বাড়ছে। তাই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজ্যে চলমান বন্যায় ইতিমধ্যে ১৫টি জেলার ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭০১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এএসডিএমএ-র সর্বশেষ বন্যা বুলেটিন অনুযায়ী, ৩৯টি রাজস্ব চক্রের ৪৮১টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। পাশাপাশি ১৪ হাজার ৩৮২ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট জেলা, যেখানে বন্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৮৫ জন। এরপর রয়েছে শিবসাগর (৪৯,৫১৫), যোরহাট (২৭,৮৪২) এবং চরাইদেও (২১,৪৮৬)।
শিবসাগর, যোরহাট, লখিমপুর এবং চরাইদেও জেলায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির খবর মিলেছে। এদিকে, নুমালীগড় এলাকায় ধনশিরি (দক্ষিণ) নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তবে রাজ্যের কোনও নদীই এখনও সর্বোচ্চ বন্যা স্তর অতিক্রম করেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ১৩৩টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রেখেছে। বর্তমানে ১০ হাজার ১১১ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং ৩৫ হাজার ৫৯৬ জন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, গবাদি পশুর খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত বন্যায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে—গোলাঘাট ও উদালগুড়ি জেলায় একজন করে। বর্তমানে কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ নেই। এছাড়া বন্যায় ৪১ হাজার ৪৭৫টি গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৬৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। নৌকা ও উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।



















