নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ আগস্ট: আগামী এডিসি ভিলেজ কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল দলের কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। নির্বাচনী কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক চলে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেব রায়, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, প্রাক্তন সাংসদ প্রতিভা ভৌমিক-সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা।
দলীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথভিত্তিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, নির্বাচনী প্রচারের রূপরেখা চূড়ান্ত করা, আদিবাসী এলাকায় জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে বিজেপির জোট কৌশল। বিধানসভা নির্বাচনের মতো এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনেও বিজেপি তাদের শরিক দল তিপ্রা মথা এবং আইপিএফটি-র সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে লড়বে, নাকি আলাদা কৌশল গ্রহণ করবে—তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠক শেষে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শুধুমাত্র গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিনিধি নির্বাচন নয়; এটি ত্রিপুরার আদিবাসী রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ এবং আগামী নির্বাচনী সমীকরণেরও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই কারণে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজেপির এই কোর কমিটির বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে বিজেপির পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং জোট-রাজনীতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে, যা এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
























