মুম্বই, ৬ আগস্ট (আইএএনএস) : সাম্প্রতিক সময়ে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে ছাত্র-যুবাদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, জেন জি প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের ক্ষোভ ও দাবিগুলি বাস্তব এবং তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত।
বৃহস্পতিবার ভারতের ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (আইআইএমইউএন)-এর ১৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত-এর সাফ কথা, জেন জি যদি প্রতিবাদ করে, তার মানে এই নয় যে তাঁরা দেশবিরোধী। তাঁরা আমাদেরই সন্তান, আগামী দিনের ভারত গড়ার প্রজন্ম। আমার বিশ্বাস, জেন জি বা জেন আলফা বর্তমান প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম ও সমাজসেবার আন্তরিক আহ্বান তাদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।
দুই হাজারেরও বেশি জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদও এক ধরনের সংলাপ। বিভিন্ন মতামত আলোচনার মাধ্যমে একত্রিত হয়ে ঐকমত্য তৈরি করে। তবে কোনো সমস্যার কথা দীর্ঘদিন গুরুত্ব না পেলে মানুষ আন্দোলনের পথে যেতে পারে। কিন্তু সেই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ঐক্যমত গড়ে তোলা, বিভাজন সৃষ্টি করা নয়।
সাথে তিনি যোগ করেন, আমি কখনও বলব না যে জেন জি-র প্রতিবাদ করা উচিত নয়। তবে গণতন্ত্রে প্রতিবাদেরও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পথ ও পদ্ধতি রয়েছে। আমাদের সংবিধান এবং ড. বি.আর. আম্বেদকরের ভাবনা সেই পথ দেখায়। বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতার পরিবর্তনের দিকেও আলোকপাত করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, আগের সময়ে বড়দের কথা প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল, কিন্তু এখনকার তরুণরা প্রতিটি বিষয়ে যুক্তি ও ব্যাখ্যা জানতে চায়।
ভাগবত-এর মতে, আমাদের তরুণ বয়সে আনুগত্যের যুগ ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে, আর সেই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে, স্নেহ দিতে হবে এবং খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে পরিবারে অর্থবহ কথোপকথন কমে যাচ্ছে। এই প্রজন্মগত দূরত্ব কমাতে নিয়মিত সংলাপের বিকল্প নেই।
ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত তরুণদের দেশের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মতাদর্শকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে বোঝার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইআইএমইউএন-এর প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহ বলেন, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন চিন্তাধারা ও মতাদর্শের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া জরুরি। তাঁর কথায়, ভারতের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রশ্নে মতাদর্শ যাই হোক না কেন, সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই পটেল, স্বামী বিবেকানন্দ এবং বীর সাভারকরের মতো ব্যক্তিত্বদের ভাবনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।



















