News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ ২২% থেকে ৭৫%-এ উন্নীত করার লক্ষ্য: মন্ত্রী কিশোর বর্মণ
Image

২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ ২২% থেকে ৭৫%-এ উন্নীত করার লক্ষ্য: মন্ত্রী কিশোর বর্মণ

আগরতলা, ৬ আগস্ট: ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার বর্তমান ২২ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘উন্নত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

আজ মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত ‘উচ্চশিক্ষা সংলাপ’ শীর্ষক পর্যালোচনা বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। ২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও অংশগ্রহণের হার ৭৫ শতাংশে পৌঁছাতে হবে। এই লক্ষ্য পূরণে আধুনিক পরিকাঠামো, সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। তবেই প্রতিটি যুবক-যুবতী দেশের উন্নয়নে নিজেদের অবদান রাখার সুযোগ পাবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমেই উচ্চশিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব।

বৈঠকে বিভিন্ন কলেজের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কিশোর বর্মন জানান, এমবিবি বিশ্ববিদ্যালয়, এমবিবি কলেজ, বিবিএমসি কলেজ এবং ল’ কলেজ—এই চারটি প্রতিষ্ঠানকে একই শিক্ষা পরিসরের অন্তর্ভুক্ত করে ২০৩০ সালের মধ্যে আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে এবং গ্রন্থাগার, ক্যান্টিন ও পরীক্ষাগারের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে, তাদের মতামত ও প্রয়োজনকে নীতিনির্ধারণে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। “প্রতিটি নীতিগত সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক আয়োজন করা হবে, যাতে স্থানীয় সমস্যাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষকে ছোটখাটো সমস্যা স্থানীয় স্তরেই নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান এবং বলেন, সব বিষয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে কিশোর বর্মন জানান, বিধানসভা ও রাজ্যপালের অনুমোদনপ্রাপ্ত ত্রিপুরা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং উইমেন্স ইউনিভার্সিটি খুব শীঘ্রই ছাত্রছাত্রী ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করবে। তবে প্রস্তাবিত মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা নেবেন বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার এবং উচ্চশিক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভর্তি সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাণবন্ত উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাবে এবং আগামী দিনের ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে।

Releated Posts

১১তম আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষে আগরতলায় সচেতনতামূলক মিছিল, আয়ুর্বেদের প্রসারে জোর

আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস উপলক্ষে আগরতলা শহরে আয়োজিত হল সচেতনতামূলক পদযাত্রা। আয়ুর্বেদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে…

ByByReshmi Debnath Sep 20, 2026

৪০ লক্ষ টাকা সহ আটক ৫ জন, কমলপুরে নাকা চেকিংয়ে বিপুল নগদ উদ্ধার

আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: পুলিশের নাকা চেকিং চলাকালীন সন্দেহভাজন একটি বোলেরো গাড়ি থেকে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায়…

ByByReshmi Debnath Sep 20, 2026

এনসিসির মূল লক্ষ্য শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, ভালো নাগরিক তৈরি করা: এডিজি(এনসিসি নর্থইস্ট)

আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: এনসিসির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক…

ByByReshmi Debnath Sep 20, 2026

শোকসন্তপ্ত পাঁচ পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ৮-টাউন বড়দোয়ালি এলাকার পাঁচ দলীয় কর্মীর পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে শনিবার তাঁদের বাড়িতে…

ByByNews Desk Sep 19, 2026
Scroll to Top