নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে হেমন্ত সোরেন সরকারের পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস। দলের নেতারা একদিকে ছাত্রদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে আন্দোলনের সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি জানাতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন জোরদার হয়েছে। এদিন ছাত্র প্রতিনিধিদের একটি দলকে ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে বৈঠকের জন্যও ডাকা হয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদ প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, “ছাত্রদের প্রতিটি ন্যায্য ও নৈতিক দাবির পাশে আমরা রয়েছি। তবে ঝাড়খণ্ডে পেরেক লাগানো লাঠি বা পেলেট গান ব্যবহার করা হয়নি। রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, আমরা তা সমর্থন করি। আলোচনার মাধ্যমেই ছাত্রদের সমস্যার সমাধান হবে।”
কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও বলেন, দলের শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যেই আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, “আমাদের নেতারা বুধবারই আন্দোলনস্থলে গিয়েছিলেন এবং ছাত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।”
কংগ্রেস সাংসদ সুখদেও ভগত অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং এনডিএ-র শরিকরা ছাত্রদের সমস্যা সমাধানের বদলে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে। তিনি বলেন, “হেমন্ত সোরেন নিজে তরুণ ও সংবেদনশীল মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেসের নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ছাত্রদেরও সমর্থন করছেন। আমরা চাই জেপিএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকুক এবং কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকুক।”
ভগত আরও দাবি করেন, বিজেপি ১৬ বছরে মাত্র পাঁচটি নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করেছিল, শেষ মেয়াদে একটি পরীক্ষাও হয়নি। তাঁর কথায়, “হেমন্ত সোরেন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নয়বার পরীক্ষা হয়েছে। ওএমআর শিটে অনিয়ম ধরা পড়ার পর জেপিএসসি-র চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছে এবং ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
কংগ্রেস নেতা রাজেশ ঠাকুরও ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ যথার্থ। তাঁর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে ছাত্রদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছেন। হেমন্ত সোরেন বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন বলেই আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই তদন্ত ও তল্লাশি শুরু হয়েছিল।”
এদিকে, টানা বৃষ্টির মধ্যেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। বৃহস্পতিবার সরকারের সঙ্গে ছাত্র প্রতিনিধিদের বৈঠকের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
























