কলকাতা, ৬ আগস্ট (আইএএনএস): দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা আরও স্পষ্ট করতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠনের পর গত তিন মাসে দলের অভ্যন্তরে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। দলের দাবি, মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং দলীয় নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০০-রও বেশি নেতাকর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটির এক সদস্য জানান, সম্প্রতি শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন ৪ মে-র পর প্রথম তিন সপ্তাহেই প্রায় ৫০ জনকে শোকজ করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তিনি জানান, শোকজ নোটিসে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা কার্যত অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক বরখাস্তের সমতুল্য।
শৃঙ্খলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শোকজ করা প্রায় ২০০টি মামলার মধ্যে প্রায় অর্ধেকের নিষ্পত্তি হয়েছে। অনেকেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের পক্ষে প্রমাণ জমা দিয়েছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় সাংগঠনিক কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনও ১০০-রও বেশি নেতাকর্মী অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যালয় জোর করে দখলের মতো অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে শৃঙ্খলা কমিটি।
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার কড়া বার্তা দিয়ে আসছে। প্রথমে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। পরে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পালও একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন।
শৃঙ্খলা কমিটির এক সদস্যের দাবি, গত তিন মাসে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলিই প্রমাণ করছে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সতর্কবার্তা শুধুই আনুষ্ঠানিক ছিল না। পাশাপাশি এখনও যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন, তাঁদের প্রতিও এটি একটি পরোক্ষ সতর্কবার্তা।



















