নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্টে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে মেটা। সংস্থার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান জানান, এই ভুলের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে সরাসরি দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
মেটার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাপলান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে বিধিনিষেধ আরোপের ভুলের জন্য আমি মেটার পক্ষ থেকে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।
বুধবার মেটার একটি বৈশ্বিক প্রতিনিধিদল অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সংস্থাটি তাদের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতির কথা স্বীকার করে। মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রতিনিধিদলটি তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণনের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করে।
ভারতে মেটার কনটেন্ট মডারেশন নীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্টে সাময়িক বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর থেকেই সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই মেটার সর্বশেষ ক্ষমাপ্রার্থনা সামনে এসেছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এর আগে বুধবারই মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গও সংস্থার প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট, ডিপফেক এবং অন্যান্য আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন।
সূত্রের দাবি, সরকার মেটার কাছে আপত্তিকর ও বিকৃত কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানায়। জবাবে জাকারবার্গ প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ত্রুটি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
সরকারি সূত্র আরও জানায়, ব্যবহারকারীদের কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছাবে তা যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম নিজেই নির্বাচন ও নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে ভারতীয় আইনের অধীনে তাকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গণ্য করা নাও হতে পারে, এই বার্তাও মেটাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
সূত্রের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় থাকা ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা কোনো প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যদি দেখা যায় যে তারা সক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করছে কোন কনটেন্ট কার কাছে পৌঁছাবে।
সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে তারা মধ্যস্থতাকারীর সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না। তারা নিজেরাই ঠিক করে কার কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছাবে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়। তারা স্বীকার করেছে যে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বাড়তি প্রচার (বুস্ট) দিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তারা এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং অনুশোচনা প্রকাশ করেছে।
তবে সরকারি সূত্রের এই দাবিগুলির বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ করা হয়নি।



















