নয়াদিল্লি, ৫ আগস্ট (আইএএনএস): সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের সপ্তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উন্নয়নের প্রতি তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, গত সাত বছরে দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোগ, ক্রীড়া-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে সাত বছর আগে অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং ৩৫(এ) ইতিহাসে পরিণত হয়েছিল। সেই দিন থেকেই জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের নতুন যাত্রার সূচনা হয়। গত সাত বছরে এই দুই অঞ্চলের মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যোগ এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁরাও এখন ভারতের সংবিধানের পূর্ণ প্রয়োগের ফলে ক্ষমতায়িত হয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ বছরের ৫ আগস্ট দিনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশ জুড়ে পালিত হবে ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তাঁর কথায়, “জাতীয় ঐক্যের প্রতি ড. মুখোপাধ্যায়ের আজীবন অঙ্গীকার আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। বহু দশক আগে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার ঐতিহাসিক বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রতিটি নাগরিক যাতে বড় স্বপ্ন দেখতে, সাফল্য অর্জন করতে এবং ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে অবদান রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে অনুচ্ছেদ ৩৭০ কার্যত অকার্যকর ঘোষণা করে। একইসঙ্গে তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে পুনর্গঠন করে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার অবসান ঘটে।


















