নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি) মঙ্গলবার বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মাদ্রাসা সম্পর্কে করা মন্তব্যকে “উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর এবং তথ্যভিত্তিহীন” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এআইএমপিএলবি-এর মুখপাত্র এস.কিউ.আর. ইলিয়াস এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও সামাজিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে অপমান করা শুধু অন্যায়ই নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের দেশের অভ্যন্তরীণ ও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ইলিয়াসের দাবি, কোনও বিদেশি ব্যক্তির বিদ্বেষপ্রসূত রাজনীতির কারণে দেশের সাংবিধানিক ও সামাজিক কাঠামো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা কেন্দ্রের দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, কলকাতায় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তসলিমা নাসরিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) এবং ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) সম্পর্কে অত্যন্ত উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন।
বোর্ডের দাবি, একজন বিদেশি নাগরিকের এ ধরনের মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের একটি “দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রচেষ্টা”। ইলিয়াস বলেন, ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি চরমপন্থা বা “জিহাদি” তৈরি করে—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক এবং একটি ধর্মীয় ও শিক্ষাগত ঐতিহ্যকে পরিকল্পিতভাবে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টা।
তার মতে, এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ শুধু দেশের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে না, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করারও অপচেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ভারতে আশ্রিত একজন বিদেশি নাগরিকের দেশের ধর্মীয়, সাংবিধানিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ইলিয়াস জোর দিয়ে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে ঘৃণা ছড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা বা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুমতি দেওয়া যায় না। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানান, আইন অনুযায়ী এ ধরনের ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নিতে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিনের মন্তব্যের উল্লেখ করে ইলিয়াস বলেন, সেসব মন্তব্যও সমানভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তার বক্তব্য, এ ধরনের মন্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি নিয়েও ভারত সরকারের গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।


















