পাটনা, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলকে জন সুরাজ পার্টির জয়ের চেয়ে বিজেপির পরাজয় হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। তাঁর দাবি, ব্যাঙ্কিপুরের ভোটাররা বিহারের নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিজেপিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
উপনির্বাচনে জয়ের পর আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “এই ফলাফলকে আমাদের জয়ের চেয়ে বিজেপির পরাজয় হিসেবেই দেখা উচিত। বিহারের মানুষ, বিশেষ করে বাঁকিপুরের ভোটাররা বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন যে বিপুল জনসমর্থনের সুযোগ নষ্ট করা উচিত নয় এবং ভুল ব্যক্তির হাতে রাজ্যের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া উচিত নয়।”
তিনি বলেন, বিহারের মানুষ এমন নেতৃত্ব চান, যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম।
প্রশান্ত কিশোরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি ‘জঙ্গল রাজ’-এর ভয় দেখিয়ে ভোট পেয়েছে। কিন্তু সেই একই ‘জঙ্গল রাজ’-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গেরুয়া আবরণে সামনে আনলে মানুষ তা মেনে নেবে না। তাঁর দাবি, এই কারণেই বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও এবার দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগছিল। দলের ধারণা হয়ে গিয়েছিল, যে কাউকে প্রার্থী করলেই মানুষ ভোট দেবে। এই মানসিকতার ফলেই ভোটাররা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের ভয় দেখিয়ে চিরকাল ভোট পাওয়া যাবে— এমন ধারণা থেকেও বিজেপিকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর কথায়, “জনগণই ক্ষমতায় আনে, আবার তারাই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।”
নিজেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে তুলনা করতে অস্বীকার করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “আমি প্রশান্ত কিশোর। প্রতিটি রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। নতুন কেউ নির্বাচনে জিতলেই তিনি কেজরিওয়াল হয়ে যান না।”
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই বলেও জানান জন সুরাজ প্রতিষ্ঠাতা। তবে তিনি বলেন, একজন বিহারবাসী হিসেবে রাজ্যের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে এবং বিহারের জন্য দক্ষ ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন।
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারির ভূমিকারও সমালোচনা করেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁর অভিযোগ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি ওই পরিবারের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
জেডিইউ বিধায়ক অনন্ত সিংহের মন্তব্য প্রসঙ্গে, যেখানে বলা হয়েছিল নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী থাকলে ফল অন্যরকম হতে পারত, প্রশান্ত কিশোর বলেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত। ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার কোনও অর্থ নেই।
বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা। তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন বিহারের মানুষ।”
বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, বিহারের একজন নেতা জাতীয় স্তরে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি গর্বিত। তবে তাঁর কাজের মাধ্যমেই সেই গর্ব আরও বাড়বে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, গত তিন বছর ধরে যেভাবে মানুষের মধ্যে কাজ করে আসছেন, আগামী দিনেও সেইভাবেই কাজ চালিয়ে যাবেন।
























