নিউ ইয়র্ক, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান অস্থিরতার মধ্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সুরক্ষা সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির অভিযোগ, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবায় বিধিনিষেধ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা, সাংবাদিকদের আটক এবং নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।
সিপিজে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বন্ধ করা, তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ পুনর্বহাল করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, স্বাধীন কাশ্মীরি সাংবাদিক সৈয়দ ফারহাদ আলি শাহ বিক্ষোভের খবর প্রকাশের কারণে এখনও আটক রয়েছেন। ২৮ জুলাই বাঘ জেলায় অনশন শুরু করার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সিপিজে তাঁর দ্রুত চিকিৎসা এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া সাংবাদিক রাজি তাহির এবং মহম্মদ সইফ ১ আগস্ট পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। সিপিজে-র বক্তব্য, তাঁরা যদি সরকারি হেফাজতে থাকেন, তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের তা স্বীকার করা, আইনসম্মত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং দ্রুত তাঁদের মুক্তি দেওয়া উচিত।
সিপিজে আরও জানিয়েছে, ১ আগস্ট পিওকে থেকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র ওয়েবসাইটে প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে বলে বহু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন। এর জেরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, ইন্টারনেটে বিধিনিষেধ এবং সাধারণ মানুষের স্বাধীন তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে পিওকে-র বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং কঠোর টেলিযোগাযোগ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, পিওকে-তে বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গত কয়েক দিনে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সিপিজে-র মতে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে প্রবেশে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং অস্থিরতার সময় সংবাদ পরিবেশনে বাধা—এসব বিষয় রাজনৈতিক সংকটের সময় স্বচ্ছতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।



















