নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর হাতে ধরা পড়া জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)-যোগের সন্দেহভাজন একটি মডিউলের তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রটি পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রীদের ছেলেদের লক্ষ্য করে ‘হানিট্র্যাপ’ চালানোর উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিল কি না।
তদন্তকারী এক আধিকারিকের দাবি, এই মডিউলটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি ‘ইনফ্লুয়েন্সার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা। পাশাপাশি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু করা, প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে হানিট্র্যাপ চালানোর পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এক আধিকারিকের কথায়, “হানিট্র্যাপ তৈরি করা এই মডিউলের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।” তদন্তকারীদের দাবি, এই কাজে যুক্ত করার জন্য তরুণীদের খোঁজা হচ্ছিল এবং মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের নিয়োগের চেষ্টা চলছিল। অভিযোগ, পরে তাঁদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, অর্থাৎ মন্ত্রীদের ছেলেদের ফাঁদে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হতো।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে বলে দাবি, এই চক্রটি মন্ত্রীদের ছেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনাও করেছিল।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, বর্তমানে এই ধরনের মডিউলগুলির কাজের ধরন আগের তুলনায় বদলেছে। আগে আইএসআই-সমর্থিত মডিউলগুলির মূল লক্ষ্য ছিল জঙ্গি হামলা চালানো। কিন্তু এখনকার চক্রগুলি মূলত ভুয়ো তথ্য ছড়ানো, গুপ্তচরবৃত্তি, হানিট্র্যাপ, অপহরণ, তোলাবাজি এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলার মতো কর্মকাণ্ডে বেশি জোর দিচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর গ্রেফতার হওয়া সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার জ্যোতি মালহোত্রার মামলার সঙ্গে এই চক্রের কাজের ধরনে কিছু মিল পাওয়া যাচ্ছে। সেই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে প্রচার এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফের তদন্তে ঝাড়খণ্ডের ২২ বছর বয়সি অভিযুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অর্পিতা সরকারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা পশ্চিমবঙ্গের মূল অভিযুক্ত হামিম মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, ডিজিটাল রেকর্ড এবং ঝাড়খণ্ড থেকে কলকাতায় তাঁর ঘন ঘন আসা-যাওয়ার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন।
এছাড়াও, তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রটি দিল্লির যন্তর-মন্তরে হিংসা উসকে দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল। একইসঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ইউনিফর্ম সংগ্রহেরও চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।



















