মুম্বই, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপির জাতীয় সভাপতি সুনেত্রা অজিত পাওয়ারকে নিয়ে কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের তীব্র সমালোচনা করল সুনেত্রা পাওয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। দলের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কোনও নারীকে অসম্মানজনক ভাষায় আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী।
সম্প্রতি কংগ্রেসের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখা হয়, “সুনেত্রা পাওয়ার, আর কতদিন ‘বোবা পুতুল’ হয়ে থাকবেন?” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত।
এনসিপির মুখ্য মুখপাত্র উমেশ পাটিল কংগ্রেসকে প্রশ্ন করেন, “এই ধরনের মন্তব্য করে কি কংগ্রেস পরোক্ষভাবে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে একসময় ‘গুঙ্গি গুড়িয়া’ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাকেই সমর্থন করছে?”
পাটিল বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও নীতিগত বিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, নারীদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করার কোনও স্থান নেই। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ইন্দিরা গান্ধীকেও বিরোধীরা একই ধরনের মন্তব্যের মুখে ফেলেছিল। কিন্তু তিনি কথায় নয়, নিজের কাজ ও নেতৃত্বের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃঢ় অবস্থান তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
এনসিপি মুখপাত্রের প্রশ্ন, যে শব্দবন্ধকে একসময় নারী বিদ্বেষী ও অপমানজনক বলে কংগ্রেস নিন্দা করত, আজ সেই একই শব্দ একজন মহিলা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে কেন? এতে কি কংগ্রেস অতীতের সেই সমালোচনাকেই পরোক্ষভাবে বৈধতা দিচ্ছে?
পাটিলের দাবি, বিষয়টি শুধু দুই দলের রাজনৈতিক বিরোধের নয়, জনজীবনে নারীদের প্রতি রাজনৈতিক আচরণের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর কথায়, নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার গণতান্ত্রিক শালীনতার পরিপন্থী।
তিনি কংগ্রেসের কাছে ওই মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জনজীবনে মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে, এনসিপি নেতা সূরজ চাভানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, “কংগ্রেস একসময় ভদ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারক ছিল। কিন্তু বর্তমান কংগ্রেস সেই আদর্শ থেকে সরে এসেছে। নারীদের প্রতি সম্মান শুধু বক্তব্যে নয়, চিন্তাভাবনাতেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। কংগ্রেসের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তাদের মানসিকতারই পরিচয় দিচ্ছে।”
























