নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ আগস্ট: চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক জনজাতি মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আগরতলার আইজিএম হাসপাতালে রবিবার রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মৃতদেহের ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃতার পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ।
জানা গেছে, রবিবার বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ খোয়াই জেলার রাধাপুর থানার অন্তর্গত বেলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা কবিতা দেববর্মাকে অসুস্থ অবস্থায় আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রথমে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে তাঁকে প্রসূতি বিভাগে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কবিতা দেববর্মার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, মৃতা প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে কারণে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা আবশ্যক। বিষয়টি জানিয়ে পশ্চিম মহিলা থানায়ও খবর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্তে আপত্তি জানিয়ে মৃতদেহ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেন। চিকিৎসকরা আইনগত বাধ্যবাধকতার কথা জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতাল চত্বরে হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেয়, এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করানো বাধ্যতামূলক এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যতিক্রম করা সম্ভব নয়।
পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জিবি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।



















