নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপেই জুন মাসে দেশের পাইকারি মূল্যসূচক (ডব্লিউপিআই) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে সোমবার লোকসভায় জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের একাধিক পদক্ষেপের ফলে খুচরো বা ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাফার স্টক বৃদ্ধি, খোলা বাজারে সরকারি মজুত শস্য বিক্রি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক ভিত্তিতে ডব্লিউপিআই মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯.৬৮ শতাংশ থেকে জুনে বেড়ে ৯.৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে সরকারের পদক্ষেপের ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে সিপিআই-ভিত্তিক খুচরো মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে তা ৩.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পঙ্কজ চৌধুরী বলেন, খনিজ তেল (পেট্রোলিয়াম পণ্য-সহ), খাদ্যপণ্য, মৌলিক ধাতু, রাসায়নিক এবং রাসায়নিকজাত পণ্যের দামে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়ায় পাইকারি মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, মূল্যস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সিপিআই-ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কেন্দ্র। চলতি বছরের মার্চ মাসে সরকার ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ, ২০৩১ পর্যন্ত সময়ের জন্য মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এর নিম্ন সহনসীমা ২ শতাংশ এবং ঊর্ধ্ব সহনসীমা ৬ শতাংশ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন মাসে দেশের খুচরো মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা মে মাসে ছিল ৩.৯৩ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


















