নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ আগস্ট: আজ সকালে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারা ‘নেশামুক্ত যুব বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। মাই ভারত এবং ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু ত্রিপুরার প্রত্যেক নাগরিককে “নেশামুক্ত যুব বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান”-এ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র সরকারের একটি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জনআন্দোলন। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার, শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করার, সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের নিজেদের আচরণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার এবং যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে “না” বলার পাশাপাশি তাদের সমবয়সীদেরও একই অঙ্গীকারে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০১৪ সাল থেকে ভারত সরকার মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। তিনি জানান, মাদকের চাহিদা হ্রাসে নোডাল মন্ত্রক হিসেবে সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রক ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর ড্রাগ ডিমান্ড রিডাকশন প্রণয়ন করেছে। এই সমন্বিত কর্মপরিকল্পনায় মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, জনসচেতনতা, শনাক্তকরণ, কাউন্সেলিং, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট চালু হওয়া নেশামুক্ত ভারত অভিযান হলো এনএপিডিডিআর-এর অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। প্রথমে দেশের মাদকপ্রবণ ২৭২টি জেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলেও বর্তমানে তা দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগটি তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে, নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো-এর মাধ্যমে মাদকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রকের মাধ্যমে জনসচেতনতা ও প্রচার কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের মাধ্যমে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা।
রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ প্রকৃতির কারণে ত্রিপুরা অবৈধ মাদক পাচারের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল। তিনি বলেন, রাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যুবসমাজকে লক্ষ্য করে মাদকচক্র সক্রিয়ভাবে তাদের আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্য, পরিবার এবং সামগ্রিক সমাজজীবনের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই অভিশাপ দূর করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল উপস্থিত সকলকে নেশামুক্ত ভারতের শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডা. বিশাল কুমার, মাই ভারত, ত্রিপুরার পরিচালক মেহবুব আলম লস্কর, মাই ভারতের স্বেচ্ছাসেবক, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।



















