নয়াদিল্লি, ২ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’-কে ভারতের ‘অমৃত প্রজন্ম’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে দেশের প্রয়োজন তাঁদের উদ্যম, সৃজনশীল কল্পনাশক্তি এবং প্রতিভা। একই সঙ্গে তিনি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
‘নশা মুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজ থেকে মাদকাসক্তি দূর করার ব্যাপারে নতুন প্রজন্মের অঙ্গীকার তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে যে ভারতের যুবসমাজ সচেতন, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ এবং নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে আন্তরিক।
তিনি বলেন, “আগামী ২০-২৫ বছরে আপনারাই নিজেদের জীবনকে দিশা দেবেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে আপনারাই নেতৃত্ব দেবেন এবং সেই সাফল্যের সুফলও আপনারাই সবচেয়ে বেশি ভোগ করবেন। দেশের প্রয়োজন আপনাদের শক্তি, সৃজনশীল কল্পনাশক্তি ও প্রতিভা। তাই দেশ ও নিজের ভবিষ্যতের স্বার্থে মাদক থেকে দূরে থাকুন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যখন কোনও যুবক বা যুবতী মাদকের শিকার হয়, তখন শুধু একজন মানুষই হারিয়ে যায় না, একটি স্বপ্নও নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে দেশের শক্তিও দুর্বল হয় এবং শত্রু দেশগুলি আমাদের যুবসমাজকে মাদকের ফাঁদে ফেলতে ষড়যন্ত্র করে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক পাচার করে লাভবান হওয়া এবং একটি দেশকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডেরই অংশ। তাই প্রতিটি যুবক-যুবতীকে এই নেশার কবল থেকে রক্ষা করা জরুরি। “মাদক সাময়িকভাবে উন্মাদনা দিলেও শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১০০টি রবিবার ‘মাদকমুক্ত ভারত’-এর লক্ষ্যে ১০০টি দৃঢ় পদক্ষেপ হিসেবে পালন করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ওয়াকাথন, ধ্যান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে।
বারাণসীর সাংসদ হিসেবে তিনি বলেন, গত বছর কাশী থেকে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে। তাই এই উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক শক্তি, সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতিফলন রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বারাণসীতে অনুষ্ঠিত যুব আধ্যাত্মিক সম্মেলনে গৃহীত ‘কাশী ঘোষণা’-এর ভিত্তিতে মাদকমুক্ত ভারতের জন্য পাঁচ বছরের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে দেশের ১২৫টি আধ্যাত্মিক সংগঠন কাজ করছে।
পুনর্বাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারের কেউ মাদকাসক্ত হলে সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখা উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, “অভিভাবকরা যদি একটু সচেতন হন, তাহলে অনেক লক্ষণই বুঝতে পারবেন। আচরণে পরিবর্তন, সবসময় অন্যমনস্ক থাকা, মুখ লুকিয়ে চলা, ঘরে নিজেকে আটকে রাখা, গভীর রাতে বাড়ি ফেরা বা অযথা বেশি টাকা চাওয়া—এসবই সতর্ক সংকেত হতে পারে।”
এছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-শিক্ষকদের প্রতিও আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করা উচিত।


















