গ্লাসগো, ২ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দিয়ে ভারতের মানচিত্র ছাপানো ন্যাপকিন ব্যবহার করায় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সাফল্যের পর ভারতীয় দলের সদস্যদের আপ্যায়নের সময় এই ঘটনা সামনে আসে।
জানা গিয়েছে, গ্লাসগোর জনপ্রিয় ভারতীয় রেস্তোরাঁ ‘মিস্টার সিং’স ইন্ডিয়া – দ্য হোম অব কারি’-তে খেলোয়াড়দের যে ন্যাপকিন দেওয়া হয়, তাতে ভারতের মানচিত্রে সম্পূর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত ছিল। বিষয়টি প্রথম নজরে আনেন অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই।
লাভলিনা আইএএনএস-কে বলেন, “ন্যাপকিনে ছাপানো মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। ভারতের প্রতিটি অংশই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং মানচিত্রে সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত।”
ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশনের (বিএফআই) সভাপতি অজয় সিংও লাভলিনার বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তাঁর অভিযোগ, শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলই নয়, ন্যাপকিনে জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্রও অসম্পূর্ণভাবে দেখানো হয়েছে।
তিনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ওই ভুল মানচিত্রযুক্ত ন্যাপকিন প্রত্যাহার করে ভারতের সম্পূর্ণ ভৌগোলিক অখণ্ডতা প্রতিফলিত করে নতুন মানচিত্র ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গ্লাসগোর এই রেস্তোরাঁটি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় এবং বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াদল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে আসেন। পাঞ্জাবি ঐতিহ্য ও স্কটিশ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে পরিচালিত এই পারিবারিক রেস্তোরাঁটি চার প্রজন্ম ধরে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সিং দল ইতিহাস গড়ে সাতটি সোনা জিতেছে, যা এই প্রতিযোগিতায় ভারতের সর্বাধিক সোনাজয়ের রেকর্ড। প্রীতি (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন (৫৭ কেজি), সাক্ষী (৫১ কেজি), প্রিয়া (৬০ কেজি), অরুন্ধতী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি) সোনা জেতেন। অন্যদিকে, যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), লাভলিনা বরগোহাঁই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর (৯০ কেজির বেশি) রুপো জেতেন।
সব মিলিয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারত এখনও পর্যন্ত ৪৪টি পদক জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১১টি সোনা, ১৩টি রুপো এবং ২০টি ব্রোঞ্জ।























