আগরতলা, ১ আগস্ট: ত্রিপুরায় অবৈধ আইপিএল ও ক্রিকেট বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় আগরতলা সাব-জোনাল অফিস প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা নয়টি স্থাবর সম্পত্তি এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ।
ত্রিপুরা পুলিশের আমতলী থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ত্রিপুরা গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৯২৬-এর বিভিন্ন ধারায় প্রসেনজিৎ পাল ও লক্ষ্মণ পালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি পিএমএলএ-র অধীনে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের ১১ মে প্রসেনজিৎ পালের বাড়িতে ত্রিপুরা পুলিশের অভিযানে ৯৩ লক্ষ টাকা নগদ, একটি ল্যাপটপ, একাধিক মোবাইল ফোন, চারটি ডেবিট কার্ড এবং বেটিং লেনদেনের হিসাব-সংবলিত ১৭টি নোটবই উদ্ধার করা হয়েছিল।
ইডির তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রসেনজিৎ পাল তাঁর মামা লক্ষ্মণ পাল এবং আরও কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে আইপিএল ও অন্যান্য ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠিত অবৈধ বেটিং চক্র পরিচালনা করতেন। এফআইআরে সহ-অভিযুক্ত লক্ষ্মণ পালের বিরুদ্ধে প্রসেনজিৎ পালকে এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং তাঁকে গ্রেফতার এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, লক্ষ্মণ পাল তাঁর স্ত্রী ঝুমা দে পালের নামে পরিচালিত একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ জমা করেন এবং পশ্চিম ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একাধিক স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন। ইডির দাবি, এসব সম্পদের বৈধ আয়ের কোনও নথিভুক্ত উৎস তদন্তে পাওয়া যায়নি।
বর্তমান বাজেয়াপ্তির মধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা ও কলকাতায় অবস্থিত কৃষিজমি ও আবাসিক জমিসহ মোট নয়টি স্থাবর সম্পত্তি এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় এটি ইডির দ্বিতীয় অস্থায়ী বাজেয়াপ্তির নির্দেশ। এর আগে চলতি বছরের ১৬ মার্চ প্রসেনজিৎ পাল এবং তাঁর মায়ের নামে থাকা সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
ইডি জানিয়েছে, বর্তমান ও পূর্ববর্তী বাজেয়াপ্তির ফলে এই মামলায় নগদ অর্থ, স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক জমাসহ মোট প্রায় ২ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকার অপরাধলব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে।
























