চেন্নাই, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): ব্যয়ের লাগামছাড়া বৃদ্ধি এবং আয়ের তুলনায় খরচ দ্রুত বাড়তে থাকায় তীব্র আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশন (জিসিসি)। কর্পোরেশনের আর্থিক ঘাটতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১,৭৬৩ কোটিতে পৌঁছেছে। ঋণের আসল অর্থ পরিশোধের হিসাব যোগ করলে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৭০ কোটি টাকা।
কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে রাজস্ব ব্যয় ছিল ৩,৫৮১ কোটি টাকা। তা বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৫,৬৭৬ কোটিতে পৌঁছেছে। পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা, ডিবিএফওটি (ডিজাইন-বিল্ড-ফাইন্যান্স-অপারেট-ট্রান্সফার) প্রকল্পে নির্মিত জনসাধারণের শৌচাগার পরিচালনা, যানবাহন ভাড়া, কর্মীদের বেতন সংশোধন এবং নতুন স্কুল ও নাগরিক পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অধীনে মূলধনী অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে যেখানে এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ১,৯৪১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫২১ কোটিতে। ফলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালিয়ে যেতে কর্পোরেশনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ তহবিলের উপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
এই ঘাটতি সামাল দিতে কর্পোরেশন বারবার রাজস্ব তহবিল থেকে মূলধনী তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে যেখানে এই স্থানান্তরের পরিমাণ ছিল ৩০৩ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৭ কোটি টাকায়, যা কর্পোরেশনের স্বাভাবিক সক্ষমতার অনেক বেশি।
আর্থিক সঙ্কটের প্রভাব কর্পোরেশনের বকেয়া বিলের পরিমাণেও স্পষ্ট। ২৯ জুলাই পর্যন্ত মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৯২৯.৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবর্ষে আরও প্রায় ১,৫০৫ কোটি টাকার বিল জমা পড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কর্পোরেশনের মোট আর্থিক দায় ৩,৪৩৪.৭২ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্পোরেশন একাধিক তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্পোরেশন কমিশনার প্রতিদিন নগদ প্রবাহ পর্যালোচনা করছেন এবং জরুরি খাতে অর্থপ্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই মাসে শুরু হওয়া বিশেষ সম্পত্তি কর সংগ্রহ অভিযানেও ইতিবাচক ফল মিলেছে। মাসের প্রথম ২৭ দিনে কর আদায় হয়েছে ১৫৮.১৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬১.৫৫ কোটি টাকা।
এছাড়া কর ফাঁকি চিহ্নিত করতে তথ্যভিত্তিক মানচিত্র তৈরি, কম মূল্যায়িত সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন, সম্পদ থেকে আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং বিভিন্ন দফতরের ব্যয় পর্যালোচনার কাজও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমাতে রাজ্য সরকারের কাছে ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস অ্যাডভান্স’ এবং স্ট্যাম্প ডিউটির সারচার্জের দুই কিস্তি আগাম ছাড়ের আবেদন জানানো হয়েছে।


















