মুম্বই, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় দুর্নীতি, অযোগ্য উপাচার্য নিয়োগ এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির জেরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)। বৃহস্পতিবার দলের মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে মহারাষ্ট্র ও কেন্দ্রের শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, গত এক মাসে মহারাষ্ট্রে ১০টিরও বেশি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এর পরেই এমএইচটি-সিইটি পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, দিনের আলোয় প্রকাশ্যে প্রশ্নফাঁস ও নম্বর কারচুপি চলছে। শিক্ষাব্যবস্থার এই অবক্ষয় সমাজের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।
দলের অভিযোগ, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া অডিও ও ভিডিওতে সিইটি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, উচ্চমাধ্যমিকে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া কিছু পরীক্ষার্থী সিইটি-তে ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর পেয়েছেন। এছাড়া একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপে এক মহিলাকে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ‘বিশেষ পরীক্ষা কেন্দ্র’-এর মাধ্যমে ৯৯ শতাংশ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতে শোনা গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং পরিস্থিতি জাতীয় স্তরের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের থেকেও গুরুতর। তাদের দাবি, শাসক বিজেপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষার মান ক্রমশ অবনতি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্পাদকীয়তে পারভানি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, ১৬০ কোটি টাকার ‘শালার্থ আইডি’ কেলেঙ্কারিতে জলগাঁওয়ের বিজেপি নেতা সঞ্জয় গারুড়ের গ্রেফতারের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে শিবসেনা (ইউবিটি)। তাদের অভিযোগ, আরএসএসের মতাদর্শ অনুযায়ী ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে কংগ্রেস, বামপন্থী ও সমাজবাদীদের অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে, অবৈজ্ঞানিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার কারণে ইসরো-সহ দেশের প্রথম সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে।
দলটি আরও বলেছে, একদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি কোচিংয়ের জন্য ঋণ নিচ্ছে, অন্যদিকে বিত্তশালীরা প্রশ্নপত্র কিনে বা বিশেষ পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করছে। একসময়ের শিক্ষানগরী পুনে এখন প্রশ্নফাঁসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়র শেষে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই অবনতি রুখতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ইতিহাস বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমা করবে না।



















