পুনে, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): ফিটনেস ও বডিবিল্ডিংয়ের নামে যুবকদের জীবন বিপন্ন করে তোলা একটি অবৈধ ইনজেকশন চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুনে পুলিশ। নির্দিষ্ট গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে মেফেন্টারমিন সালফেট ইনজেকশন আইপি-এর ৫০টি ভায়াল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বডিবিল্ডিং এবং নেশার উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ জুলাই রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ কাটরাজ-দত্তনগর রোডের আনন্দ দরবারের কাছে একটি জনসাধারণের রাস্তায় অভিযান চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, ধৃতরা বৈধ ওষুধ বিক্রির লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ফার্মাসিউটিক্যাল যোগ্যতা ছাড়াই এই প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ইনজেকশন অবৈধভাবে বিক্রি করছিল।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন অথর্ব ইন্দ্রজিৎ শিন্ডে (২৪), অবিনাশ শিবা বালুঙ্গি (২২), প্রদীপ জিতেন্দ্র হুমব্রে (২৬), পীযূষ গণেশ ভরাম (২৬) এবং লক্ষ্মণ পরমেশ্বর মানে (৩৬)।
পুলিশ জানিয়েছে, মেফেন্টারমিন সালফেট ইনজেকশন শুধুমাত্র যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহারযোগ্য একটি প্রেসক্রিপশন ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ইনজেকশন ব্যবহার করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শরীরচর্চায় দ্রুত পেশি বৃদ্ধি, শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো বা নেশার উদ্দেশ্যে এই ইনজেকশন বেআইনিভাবে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইনজেকশনগুলির উৎস, এর সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর সরবরাহ চক্র এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের পরিচয় জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, যুবসমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা ফিটনেস ও বডিবিল্ডিং সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে যারা নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত ওষুধের অবৈধ ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বডিবিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অ্যানাবলিক স্টেরয়েড, হিউম্যান গ্রোথ হরমোন, পেপটাইড বা অন্যান্য কর্মক্ষমতা-বর্ধক ইনজেকশনের অপব্যবহার গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত জমাট বাঁধা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, লিভারের ক্ষতি-সহ একাধিক প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।



















