কলকাতা, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবন সরকারের বন দফতর সুন্দরবনের অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া প্রায় ১,৬০০ হেক্টর প্রাক্তন বনভূমিতে ফের ম্যানগ্রোভ বনায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ওই বনভূমি দখল করে সেখানে নোনা জলের ভেড়ি (মাছচাষের খামার) গড়ে তোলা হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুতেই রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও অবৈধ ভেড়িগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি ভেঙে ফেলা এবং সেখানে পুনরায় ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের নির্দেশ দেন। বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ মাছচাষের খামার চিহ্নিত করার কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় ১,৬০০ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে আবারও ম্যানগ্রোভ বন গড়ে তোলা হবে।
বন দফতরের ওই আধিকারিকের দাবি, এত বড় এলাকাজুড়ে পরিকল্পিতভাবে বনভূমি দখল হওয়ার ঘটনায় মাছচাষের খামারের মালিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের একাংশের মধ্যে যোগসাজশের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
তাঁর কথায়, প্রথমে জোয়ারের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আটকাতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ফলে ধীরে ধীরে জমি শুকিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংস হয়ে পড়ে। এরপর সেই জমিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে মাছচাষের জন্য পুকুরে রূপান্তরিত করা হয়। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া রাতারাতি সম্ভব নয় বলেই সংঘবদ্ধ চক্রের ভূমিকা স্পষ্ট বলে দাবি বন দফতরের।
উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, ২০১৬ সালের আগে ওই এলাকায় ঘন ম্যানগ্রোভে আচ্ছাদিত একটি দ্বীপ ছিল। বর্তমানে সেই সবুজ বনভূমির পরিবর্তে গোটা এলাকা ছোট ছোট প্লটে ভাগ হয়ে অবৈধ মাছচাষের খামারে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই অবৈধ ভেড়ি ও বাঁধ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে ১,৬০০ হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ করা হবে।
এদিকে, মাছচাষের খামারের মালিক, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনের একাংশের সম্ভাব্য যোগসাজশের তদন্তও শুরু করেছে জেলা পুলিশ। বনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বন দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।
পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় অঞ্চলকে ঘূর্ণিঝড় ও সুপার সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা থেকে রক্ষা করার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। তাই ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয় রুখতে এই বনভূমির সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছে।



















