সাব্রুম, ২৭ জুলাই: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম শহরে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, স্ট্রিট লাইট, পানীয় জল ও মশা নিয়ন্ত্রণ-সহ একাধিক মৌলিক পরিষেবার বেহাল দশায় নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যের শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সাব্রুমে উন্নয়নের দাবি করলেও বাস্তবে নগর পঞ্চায়েত এলাকার নাগরিক পরিষেবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার দু’পাশে পাকা নিকাশি নালা থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় জল নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। নালাগুলি আগাছায় ভরে থাকায় সাপ ও বিভিন্ন বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে।
বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায় এবং নিকাশি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে নোংরা জল ও বর্জ্য রাস্তায় উপচে পড়ে। বিশেষ করে সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের বাউন্ডারি সংলগ্ন আনন্দপাড়া থেকে ঠাকুরপল্লী পর্যন্ত রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
নগরবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর শহরের বহু এলাকায় স্ট্রিট লাইট না জ্বলায় অন্ধকারে চলাচল করতে বাধ্য হন পথচারীরা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পড়াশোনার জন্য সাব্রুমে আসা ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়, যা নিরাপত্তার দিক থেকেও উদ্বেগজনক।
এছাড়াও, টু-ইপ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ না হওয়ায় রাস্তার ধারে আগাছা এবং নিকাশি নালায় আবর্জনা জমে রয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে মশার উপদ্রবও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ডিডিটি স্প্রে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।
পানীয় জল সরবরাহ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ে জল সরবরাহ হয় না। অথচ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কর (ট্যাক্স) আদায় করা হলেও তার তুলনায় নাগরিক পরিষেবা মিলছে না।
নগরবাসীর প্রশ্ন, কর আদায়ে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও কেন প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দ্রুত রাস্তা মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্ট্রিট লাইট সচল করা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


















