নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): সংসদে সোমবার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশের আগে তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ হবে না, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি। অন্যদিকে, এনডিএ নেতৃত্বের দাবি, নতুন আইন প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে আগেও আইন করা হয়েছে, কিন্তু তার কার্যকর প্রয়োগ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, তদন্তে এখনও পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল হয়নি এবং মূল অভিযুক্তরাও অধরা। শুধু নতুন আইন এনে সমস্যার সমাধান হবে না।
আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝা বলেন, প্রশ্নফাঁসের কারণ আইনের অভাব নয়, বরং ব্যবস্থার ভিতরে থাকা দুর্নীতি। তাঁর মতে, যারা নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের একাংশই এই ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফলে ব্যবস্থাগত ত্রুটি দূর না হলে নতুন আইনও কার্যকর হবে না।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, বিরোধীদের একাধিক দাবি এখনও পূরণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পেলেট ব্যবহারের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমালোচনার বিষয়ও সংসদে তোলা হবে বলে জানান তিনি।
কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেনের অভিযোগ, ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এড়াতেই সরকার এই বিল আনছে। তাঁর দাবি, ছাত্রদের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, শুধু শাস্তি বাড়ানো নয়।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাম গোপাল যাদবও বিলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “কঠোর আইন করলেই অপরাধ বন্ধ হয় না। প্রশ্নফাঁস হয় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ বা কিছু প্রভাবশালী কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে। এই ব্যবস্থাগত সমস্যা না মিটলে নতুন আইনেও লাভ হবে না।”
সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং সংসদে এই সংশোধনী বিল পেশ করবেন। ২০২৪ সালের পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তিন মাসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে।
অন্যদিকে, এনডিএ নেতারা বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি প্রশ্নফাঁস রুখতে কার্যকর ভূমিকা নেবে।
বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়াল বলেন, সরকার এই অপরাধের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, ১০ বছরের কারাদণ্ড ও কোটি টাকার জরিমানার বিধান সরকারের সদিচ্ছারই প্রমাণ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা এই ইস্যুতে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রশ্নফাঁস দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এই চক্রকে স্থায়ীভাবে ভাঙতেই সরকার নতুন আইন আনছে।
জেডিইউ-র জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদ বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্তদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বিজেপি সাংসদ মেধা কুলকার্নির মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যা ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রোধে বড় ভূমিকা পালন করবে।



















