নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির “দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন তরুণ হওয়া উচিত” মন্তব্যকে ঘিরে রবিবার রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এক সুরে বলেন, ভারতে প্রধানমন্ত্রীর বয়স নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের জনগণই ঠিক করেন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন।
শনিবার এক জনসভায় ওয়েইসি বলেন, “ভারতের ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে এবং ৫০ শতাংশ মানুষের বয়স ২৫ বছরের নিচে। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে আমরা তরুণদের প্রার্থী করব, যাতে তারা নির্ভয়ে মানুষের কথা বলতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের চেষ্টা থাকবে, ২০২৯ সালের নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেন ৮০ বছরের কেউ না হয়ে ৪০ বা ৪৫ বছরের একজন তরুণ হন।”
ওয়েইসির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহ দেও বলেন, “ওয়েইসি বয়স নিয়ে এত চিন্তিত কেন, তা বুঝতে পারছি না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বয়সও ৮০ বছরের বেশি, তবুও তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওয়েইসি একটি বিশেষ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তিনি শুধু মুসলিম তোষণের রাজনীতিই করেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে, এ নিয়ে আমরা গর্বিত।”
বিজেপি নেতা আর.পি. সিং অভিযোগ করেন, ওয়েইসি-সহ বিরোধী নেতারা যুবসমাজকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, “দেশের ছাত্র-যুবকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী যে ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন, বিশ্বের অন্য কোনও প্রধানমন্ত্রী তা করেননি।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাকেশ সিনহা বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে ৮০ বছরের ব্যক্তি যেমন নির্বাচনে লড়তে পারেন, তেমনি তরুণরাও পারেন। যে দল জয়ী হয়, সেই দলই তাদের নেতা নির্বাচন করে। শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণই ঠিক করেন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, কোনও রাজনৈতিক দল নয়।”
কংগ্রেস সাংসদ সুখদেও ভগত বলেন, “গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। আমাদেরও নিজস্ব সংগ্রামের পথ রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একজন দূরদর্শী নেতা বলে উল্লেখ করেন এবং দেশ গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন।



















