নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): ২৭তম কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর সেনানীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন এবং ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ। তাঁরা সকলেই ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে শহিদ সেনাদের অতুলনীয় সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁদের অবদানের কথা স্মরণ করে জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, “কার্গিল বিজয় দিবসে দেশ আমাদের বীর সেনানীদের অসাধারণ সাহস এবং ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি তাঁদের অটল নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। প্রতিকূলতম পরিস্থিতিতেও তাঁদের বীরত্ব চিরকাল জাতির গর্বের উৎস হয়ে থাকবে। তাঁদের দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর বার্তায় বলেন, কার্গিলের বীর যোদ্ধাদের অতুলনীয় সাহস, দৃঢ় সংকল্প ও দেশপ্রেম ভারতীয় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীক। দেশের সুরক্ষায় আত্মবলিদানকারী সেই বীরদের প্রতি জাতি চিরকাল ঋণী থাকবে এবং তাঁদের বীরত্বগাথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ১৯৯৯ সালে কার্গিলের দুর্গম শৃঙ্গগুলিতে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়ে মাতৃভূমি রক্ষায় আত্মবলিদানকারী সেনাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তাঁদের সাহস, ত্যাগ এবং অদম্য মনোবল আগামী প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিন কার্গিল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি শ্রীনগর থেকে দ্রাসের উদ্দেশে রওনা হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, কার্গিল বিজয় দিবস ভারতীয় সেনাবাহিনীর অদম্য সাহস ও বীরত্বের প্রতীক। ১৯৯৯ সালে হিমালয়ের তুষারাবৃত দুর্গম উচ্চভূমিতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ‘অপারেশন বিজয়’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনারা শত্রুপক্ষকে পরাস্ত করেছিলেন। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী সব বীর সন্তানকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।
ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ বলেন, কার্গিল বিজয় দিবস ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের অমর প্রতীক। কার্গিলের বীর যোদ্ধাদের বীরত্ব ও অটল সংকল্প ভারতের বিজয়ের সোনালি ইতিহাস রচনা করেছে। তাঁদের আত্মত্যাগ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কাছে অনুপ্রেরণার অক্ষয় উৎস এবং ভারতীয় সেনা সর্বদা দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতি গঠনের কাজে নিবেদিত থাকবে।
উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, কার্গিল যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অসাধারণ সাহস, অটল সংকল্প এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগই ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল। এই বিজয় দেশের সামরিক সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং মাতৃভূমির প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষার অঙ্গীকারের প্রতীক।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত চলা কার্গিল সংঘর্ষে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীরা নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) অতিক্রম করে একাধিক কৌশলগত উচ্চভূমি দখল করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন বিজয়’, ভারতীয় বায়ুসেনার ‘অপারেশন সাফেদ সাগর’ এবং নৌবাহিনীর পূর্ণ সমর্থনে সেই দখলমুক্ত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করে। প্রায় ৫,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় কার্গিল, দ্রাস, বাতালিক, মুশকোহ ও কাকসার অঞ্চলে সংঘটিত এই যুদ্ধে ৫২৭ জন ভারতীয় সেনা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেন। কঠিন আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং শত্রুর শক্তিশালী অবস্থান সত্ত্বেও ভারতীয় বাহিনী নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম না করেই অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে পেশাদারিত্ব ও সংযমের অনন্য নজির স্থাপন করে।
এদিকে, রবিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৬তম পর্বে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি আকাশবাণী, দূরদর্শন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হবে।



















