ইম্ফল, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): মণিপুরে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে এক মহিলা-সহ পাঁচজন সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মায়ানমার থেকে আনা আফিম ও ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, মণিপুর পুলিশ ও নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র যৌথ অভিযানে চুরাচাঁদপুর জেলার একটি হোটেল থেকে নেংজাতুয়ান ওরফে তুয়ানপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিজোরাম ও মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এই জেলায় ধৃত ব্যক্তি বড় মাদক সরবরাহকারী বলে অভিযোগ। এনসিবি, ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) এবং মণিপুর পুলিশের দায়ের করা মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবিত পদার্থ আইন (এনডিপিএস)-এর একাধিক মামলায় তিনি ওয়ান্টেড ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অন্য একটি অভিযানে ইম্ফল পূর্ব জেলার মন্ত্রিপুখরি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩.৬৬ কেজি সন্দেহভাজন আফিম উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন অনিল দাস (৭৫), রোশন বাসনেত (৪৮) এবং গোমা কার্কি (৩৩)। তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মাদক প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার থেকে আনা হয়েছিল। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত মণিপুরের সঙ্গে মায়ানমারের সংযোগ স্থাপন করেছে। মায়ানমারের কাচিন ও শান-সহ উত্তরাঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আফিম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত।
গত কয়েক মাসে মায়ানমার-যোগ থাকা মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে এটি আরও একটি বড় সাফল্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, তৃতীয় অভিযানে চন্দেল জেলার সুগনু এলাকার বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সি টিন্নেই থাদৌ নামে এক মহিলাকে চুরাচাঁদপুর জেলার সঙজা খোপি গ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১.৬ কেজি সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১.৫ কোটিরও বেশি টাকা।
অন্যদিকে, রাজ্যে জঙ্গি দমনে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। সংবেদনশীল ও মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি এবং এলাকা দখল অভিযান চালানো হচ্ছে। জঙ্গি ও সন্দেহভাজনদের চলাচল রুখতে উপত্যকা ও পাহাড়ি জেলাগুলিতে মোট ১১২টি নাকা ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।
ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩৭)-এ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক-সহ বিভিন্ন যানবাহনকে নিরাপত্তা বাহিনীর এসকর্ট দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে কনভয় সুরক্ষাও জোরদার করা হয়েছে।
মণিপুর পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুজব বা ভুয়ো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ভিডিও সম্পর্কে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছে।
























