নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই (আইএএনএস): নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়ায়। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং তাদের সমর্থকেরা সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে যন্তর-মন্তর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে দিল্লি পুলিশ।
আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমাদের দাবি একেবারে স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো আইএএনএসকে বলেন, “এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন দেখে আমরা খুবই আনন্দিত। সোনম যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা এখন অনেক বড় আকার নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আজকের দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটাই শেষ নয়। আন্দোলন ভবিষ্যতেও চলবে, যদিও সব সময় অনশন বা বিক্ষোভের মাধ্যমে নয়। আমাদের লক্ষ্য, শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার যেন দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। তবেই ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সম্ভাবনা পূরণ করতে পারবে এবং দেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থানে পৌঁছবে।”
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই এই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে যন্তর-মন্তরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং এলাকাজুড়ে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জের অভিযোগও ওঠে।
কিছু বিক্ষোভকারীর দাবি, আন্দোলনস্থলের আশপাশে মোবাইল ফোনের সংযোগ ব্যাহত করতে সিগন্যাল জ্যামারও ব্যবহার করা হয়েছে।
























