আগরতলা, ২০ জুলাই: জাতীয় ফ্যাশন মঞ্চে ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল পরিচয় তুলে ধরে মিস টেন ডিভা ২০২৬ প্রতিযোগিতায় ‘বেস্ট ন্যাশনাল কস্টিউম’ পুরস্কার জিতেছেন ত্রিপুরার চন্দ্রমিতা রায়। জয়পুরে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় তাঁর এই সাফল্য রাজ্যের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
চন্দ্রমিতার পুরস্কারজয়ী পোশাকটি ডিজাইন করেছেন নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফ্যাশন উইক – দ্য আর্টিজানস মুভমেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইয়ানা ঙ্গোবা চাকপু। ত্রিপুরার আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এই পোশাকটি তার অভিনব নকশা ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার জন্য বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পোশাকটিতে ত্রিপুরার দেববর্মা (ত্রিপুরি) সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লয়েন লুমে বোনা হস্তনির্মিত বস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত একটি প্রাচীন বয়নশিল্প। পোশাকের ডানার নকশা তৈরি করা হয়েছে ত্রিপুরার রাজ্য ফুল নাগেশ্বর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, যা প্রকৃতির সৌন্দর্য ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় কয়েনের গয়না, রূপার আদিবাসী অলঙ্কার এবং লাল পুঁতির সংমিশ্রণে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে এই কস্টিউমে।
এই উপস্থাপনায় সহযোগিতা করেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। রাজ্যের সংস্কৃতি ও পর্যটনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
পুরস্কার পাওয়ার পর চন্দ্রমিতা রায় বলেন, ত্রিপুরাকে এই পোশাকের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। এই স্বীকৃতি শুধু আমার নয়, আমাদের রাজ্যের শিল্পী, তাঁতি ও কারিগরদের সম্মান।”
ডিজাইনার ইয়ানা ঙ্গোবা চাকপু বলেন, “এই সৃষ্টির প্রতিটি সুতো ও অলঙ্কার ভারতের আদিবাসী সংস্কৃতির গল্প বলে এবং আমাদের ঐতিহ্যকে জীবন্ত রেখে চলা শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।”
রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ফ্যাশনের মাধ্যমে সংস্কৃতি সংরক্ষণ, পর্যটন প্রসার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



















