ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (আইএএনএস): ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ—হরমুজ প্রণালী এবং সুয়েজ খাল—নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ যুদ্ধ-পূর্ব স্তরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে ফিরে এসেছে। তবে ন্যাটোর প্রাক্তন সর্বাধিনায়ক অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস সতর্ক করেছেন, ইরান হুথি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে সুয়েজ খালেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও প্রায় ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অর্থাৎ আরব উপসাগর অঞ্চল থেকে মোট দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ হচ্ছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
তিনি জানান, জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলেও বড় আকারের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে।
ক্রিস রাইট বলেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চান, তবে প্রয়োজনে সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানও নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার প্রশাসনের এই মূল্যায়নের সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ভার্জিনিয়ায় পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ২.৮১ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে এবং ডিজেলের দাম ৫ ডলার ছুঁয়েছে। তাঁর মতে, অদূর ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট মিটবে বলে মনে হচ্ছে না।
এদিকে, ন্যাটোর প্রাক্তন সর্বাধিনায়ক অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সুয়েজ খালের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ জানায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। তাঁর মতে, লোহিত সাগরের উত্তর প্রান্তে জর্ডানের কৌশলগত অবস্থানের কারণেই সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার যোগ থাকতে পারে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালী এবং সুয়েজ খাল হয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই দুই বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলিও তার প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।


















