ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (আইএএনএস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিন মার্কিন সেনাসদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উপর আর তেহরানের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।
এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নেমে হোয়াইট হাউসে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, “ওই মহান দেশপ্রেমিকরা যুদ্ধ করছিলেন, যাতে ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে। তাঁদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, “ইরান সামরিকভাবে প্রায় সবকিছুই হারিয়েছে। তাদের হাতে খুব সামান্য ক্ষেপণাস্ত্র, কিছু ড্রোন এবং সীমিত উৎপাদন ক্ষমতা ছাড়া তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই।”
ট্রাম্পের আরও দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তাঁর কথায়, “হরমুজ প্রণালী এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। ইরান কোনও কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে না। আমরা আজ রাতেও তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছি এবং সেটি সম্ভবত নিহত তিন মার্কিন দেশপ্রেমিকের সম্মানেই করা হয়েছে।”
তবে নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় বা তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এদিন ট্রাম্প কাতারের উপহারে পাওয়া একটি বিমান, যা ভবিষ্যতে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বিমানটিতে ইতিমধ্যেই উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে সেটিকে আরও অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হবে।
এছাড়া কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়েও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে, তবে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ বা শুল্ক আরোপের বিষয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “স্পেনের সঙ্গে বা অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনও উত্তেজনা নেই।”
উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বা উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।


















