নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানোর পর শাসক এনডিএ এবং বিরোধী ভারত জোটের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
চিঠিতে রাহুল গান্ধী ও খাড়গে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ট্রাস্টের সদস্যদের আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাঁরা মন্দিরে প্রাপ্ত নগদ অর্থ, সোনা-রুপোর দান এবং হিসাবের সম্পূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
এই দাবির পর বিজেপি বিধায়ক রাম কদম কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, অতীতে রামসেতুর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ভগবান রামের অস্তিত্ব অস্বীকার করা কংগ্রেস এখন হঠাৎ রামভক্ত সেজে রাজনৈতিক নাটক করছে। তাঁর দাবি, ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত চলছে এবং দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় নিরুপম বলেন, রাম মন্দিরে দান চুরির ঘটনাকে কেউ সমর্থন করছে না। ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তদন্ত শুরু করেছে এবং সাত-আটজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে, চূড়ান্ত রিপোর্টও শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। তবে তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে।
শিবসেনা নেত্রী শাইনা এনসি অবশ্য নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু বিষয়টি রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আসল প্রশ্ন হল দানের অর্থ কোথায় গেল, সেটিরই উত্তর খুঁজে বের করা।
অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, অযোধ্যার রাম মন্দিরে দান চুরির অভিযোগ গোটা দেশকে ব্যথিত করেছে। বিরোধী দলনেতাদের এই বিষয়টি তুলে ধরা সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে এবং কেন্দ্রের উচিত বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দেখা।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র মুখপাত্র আনন্দ দুবে বলেন, এসআইটি তদন্ত করলেও প্রধানমন্ত্রীকেও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর দাবি, গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখা স্বাভাবিক বিষয় এবং এতে রাজনীতি খোঁজার কোনও কারণ নেই। একইভাবে আরজেডি নেতা মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারিও বলেন, জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা বিরোধী দলের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
রাম মন্দিরে দান আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত এখনও এসআইটির অধীনে চলছে। এর মধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই রাজনৈতিক সংঘাত জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



















