নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুলাই: আগরতলার ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল (আইজিএম) হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছয় মাসের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত শিশুর নাম জয়দীপ দাস (৬ মাস)। বাড়ি পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আর কে নগর বনিক্য চৌমুহনী এলাকায়। শিশুটির বাবা নিত্যানন্দ দাস হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশুটিকে প্রথমবার আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুর অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়ে কিছু ওষুধ লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগ, ওষুধ সেবনের পরও শিশুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কয়েকদিন পর আবার তাকে আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও শিশু বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে ভর্তি না রেখে একটি থার্মোমিটার ও জ্বরের ওষুধ লিখে বাড়ি পাঠিয়ে দেন বলে দাবি পরিবারের।
এরপর শিশুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে এক বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরদিন আবার আইজিএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তখন চিকিৎসকরা শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে শ্বাসকষ্টের জন্য নেবুলাইজেশন (ধোঁয়া) চিকিৎসা শুরু করেন।
মৃতের পরিবারের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় শিশুটি ধীরে ধীরে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়, প্রস্রাব ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক ছিল না। বিষয়টি চিকিৎসকদের জানানো হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে কেবল স্যালাইন ও কিছু ওষুধ লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর শিশুর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং শরীরের রং পরিবর্তন হতে শুরু করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুর বাবা নিত্যানন্দ দাসের অভিযোগ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তাঁর সন্তানের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শিশুর মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা উচিত।



















