আগরতলা, ১৭ জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার চোত্তাখলায় সিপিআই(এম)-এর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৫ জুলাই সংঘটিত অশান্তির ঘটনায় দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ত্রিপুরার পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সমাজবিরোধী শক্তিকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ভণ্ডুল করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট পঞ্চায়েত নির্বাচন চলাকালীন নিহত সিপিআই(এম) নেতা বাদল শীলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ জুলাই চোত্তাখলায় একটি স্মরণসভা ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
বিরোধী দলনেতার দাবি, কর্মসূচির জন্য আগেই পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ১৩ জুলাই সিপিআই(এম)-এর একটি প্রতিনিধি দল বিলোনিয়ার বিধায়ক দীপঙ্কর সেনের নেতৃত্বে দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলা শাসক (ডিএম) ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আবেদন জানায়। উভয় আধিকারিকই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৪ জুলাই তিনি নিজেও টেলিফোনে ডিজিপির সঙ্গে কথা বলে চোত্তাখলার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তাঁর দাবি, ডিজিপিও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে অভিযোগ, ১৫ জুলাই সকাল থেকেই কর্মসূচিস্থলের আশেপাশে বিজেপি সমর্থকরা জড়ো হয়ে সিপিআই(এম)-এর সমর্থকদের কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। বিষয়টি বারবার পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জিতেন্দ্র চৌধুরী।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা সিপিআই(এম)-এর সমর্থকদের বহনকারী একাধিক গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় এবং ওই ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয়জন দলীয় কর্মী আহত হন। সেই সময় একাধিকবার দক্ষিণ ত্রিপুরার পুলিশ সুপারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, চোত্তাখলা যাওয়ার পথে একাধিকবার পুলিশ তাঁর গাড়িবহর আটকে দেয়, যার ফলে কর্মসূচিস্থলে পৌঁছাতে এক ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়। পরে এলাকায় পৌঁছানোর পরও পুলিশ তাঁকে এবং অন্যান্য দলীয় নেতাদের মূল কর্মসূচির স্থানে যেতে বাধা দেয়। অথচ, তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই বাধা সৃষ্টি করে পুলিশ।
চিঠিতে তিনি পুলিশের এই ভূমিকা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ ত্রিপুরার পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ‘অদক্ষতা, নিষ্ক্রিয়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার’ অভিযোগ এনে ডিজিপির ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আবেদন জানিয়েছেন।



















